logo

মের্কেলের পদত্যাগ চায় ৪০% জার্মান

মের্কেলের পদত্যাগ চায় ৪০% জার্মান

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল।

বার্লিন, ২৯ জানুয়ারি- জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের শরণার্থী বিষয়ক নীতির কারণে তার পদত্যাগ চায় ৪০ শতাংশ জার্মান নাগরিক। শুক্রবার পরিচালিত নতুন এক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার গোলযোগপূর্ণ অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের প্রতি মের্কেলের উদার দৃষ্টির কারণে তার প্রতি গণঅসন্তোষ বাড়ারই লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। নতুন জরিপে শরণার্থী ইস্যুতে জার্মানদের মধ্যে বিভক্তিও প্রকাশ পেয়েছে।

জার্মানির ডান ও বামপন্থি রাজনীতিবিদদের মধ্যেও তীব্র মের্কেল বিরোধিতা দেখা গেছে। ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) প্রতি তিন সমর্থকের দুইজনই মের্কেলের পদত্যাগ চায়। সম্প্রতিক জরিপগুলোতে এ রাজনৈতিক দলটি জার্মানিতে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তৃতীয় অবেস্থানে উঠে এসেছে।

ডানপন্থি এ দলটির পাশাপাশি বামপন্থি ডি লিঙ্খ পার্টির ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থক মের্কেলের শরণার্থী নীতির ঘোর বিরোধী এবং এ কারণে তারা মের্কেলের পদত্যাগ চায়। শরণার্থীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয়েও দলটি সরকারের বিতর্কিত শরণার্থী নীতির সমালোচনা করেছে। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, সরকারের শরিক দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরদেরও (এসপিডি) ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ সমর্থক মের্কেলের পদত্যাগ চায়।

অবশ্য ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২ হাজার ৪৭ জনের ওপর ফোকাস ম্যাগাজিনের জন্য পরিচালিত ইনসা জরিপে এও দেখা গেছে যে, ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ জার্মানই মনে করে শরণার্থী সঙ্কটের জন্য মের্কেলের পদত্যাগের কোনও কারণ নেই।

ওদিকে, শুক্রবারেই ‘ইলেক্টর রিসার্চ গ্রুপ’ পরিচালিত অন্য আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, মের্কেলের কনজারভেটিভ ব্লকের প্রতি সমর্থন দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশে। সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৪২ শতাংশ। আর এসপিডি’র সমর্থনও বাড়েনি বরং ২৪ শতাংশেই স্থির রয়েছে।

জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এবং বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ১শ’রও বেশি নারীর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনায় এসব বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা দেশটিতে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

গতবছরের শুরুর দিকে মের্কেলের জনপ্রিয়তা রেকর্ড পর্যায়ে থাকলেও সম্প্রতি কয়েকমাসে তা অনেক বেশি হারে নিম্নমুখী হয়েছে। শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নেওয়ার জন্য চাপের মুখে পড়েছেন তিনি। চাপের কারণে এরই মধ্যে অভিবাসন আইন কড়া করারও পরিকল্পনা করেছে জার্মান সরকার।

মার্চে জার্মানির তিনটি রাজ্য নির্বাচন এবং আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোটারদেরকে শরণার্থী সঙ্কট পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার ব্যাপারে আশ্বস্ত করার চেষ্টায় আছে ক্ষমতাসীন দলগুলো।