logo

যুদ্ধের ৭০ বছর পর একত্রিত হতে চলেছে প্রেমিক-যুগল!

যুদ্ধের ৭০ বছর পর একত্রিত হতে চলেছে প্রেমিক-যুগল!

৭০ বছর আগে ১৯৪৫ সালের যুদ্ধের সময় তাদের প্রথম দেখা। তখন জয়েচ রিচমন্ডে বসবাস করত। নরউড ছিলেন একজন আমেরিকান সৈনিক। সে ডি-ডে এর সময় যে ১০১ জন প্যারাসুট নিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন।

যুদ্ধের পর নরউড আমেরিকায় ফিরে যায় এবং জয়েচ লন্ডনে থেকে যান। তারা একে-অপরকে একটি ট্রেন ষ্টেশনে বিদায় জানান। পরে নরউড একবার একটি চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। তারপর তাদের মাঝে আর কখনও যোগাযোগ হয়নি।

কিন্তু ৭১ বছর পর ৯৩ বছর বয়সী নরউড এবং ৮৮ বছর বয়সী জয়েচ আবার পুনর্মিলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই বছর ভ্যালেন্টাইন ডে তে তারা আবার ক্রাউড ফান্ডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কারণে এক হতে চলেছেন।

নরউড তার প্রথম ভালবাসার কথা স্থানীয় একটি পত্রিকা ভারজিনিয়ান পাইলট এ প্রকাশ করেন। তখন বারবারা ম্যাক ডোনাল্ড ‘গো ফান্ড মি’ নামের একটি ক্যাম্পেইন শুরু করে এই প্রেমিক যুগলকে একত্রিত করার চেষ্টা করেন।

১৯৯০ সালে নরউড মনে করেন তার ভালবাসার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। কারণ, লন্ডনে একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটলে তাতে একজন নারীর এরকম বর্ণনা ছিল যা হুবহু জয়েচের সাথে মিলে গিয়েছিল।

কিন্তু জয়েচ বেঁচে আছে। সে এখনও তার প্রথম ভালবাসা সেই সৈনিকের কথা চিন্তা করেন। গত বছর নভেম্বর থেকে জয়েচ নরউডকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পরে নরউডের সাথে জয়েচের স্কাইপে কথা হয়।

এতো সমস্যার পরও তারা তাদের গত সাত দশকের জীবন সম্পর্কে একে-অপরকে জানান। তাদের বিয়ে হয়েছে এবং সন্তানাদি রয়েছে। জয়েচের বিয়ে হলেও সে এখন তালাকপ্রাপ্ত। আর নরউডের স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন।

জয়েচ জানান, তিনি সকালে উঠে সবার আগে নরউডের ছবি দেখে তাকে ‘শুভ সকাল’ জানিয়ে তার দিন শুরু করেন। নরউডের সেই ৭০ বছর আগের ছবি এখনও জয়েচের কাছে রয়েছে।

তখন নরউড জয়েচকে বলেন, আমিও তোমাকে তোমার নিকট দাড়িয়ে ‘শুভ সকাল’ জানাতে চাই। তার ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে। বারবারা তাদের দেখা করানোর জন্য টাকার ব্যবস্থা করেছেন। বারবারা ৭০০০ ডলার দিয়েছেন নরউডকে নিউজিল্যান্ড থেকে জয়েচের নিকট অস্ট্রেলিয়া যাবার জন্য। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিমান তাকে ফ্রি জয়েচের নিকট পৌঁছে দিবেন বলে জানিয়েছেন।–সূত্র: মেট্রো।