logo

দেশের অগ্রগতি সহ্য হচ্ছে না বলেই হত্যা-হামলা

দেশের অগ্রগতি সহ্য হচ্ছে না বলেই হত্যা-হামলা

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারী- দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি সহ্য হচ্ছে না বলেই রাজনীতির নামে, ধর্মের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিল্পকলায় এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রাজনীতির নামে, ধর্মের নামে উপাসনালয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পুলিশের উপর হামলা করা হয়েছে। ধর্ম যাজক, লেখক-প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সহ্য করতে পারেনি বলেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।
 
সম্প্রতি ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র সঙ্গীতাঙ্গনে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, একটি বৈরি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে আমাদের। এই বৈরি শক্তিকে পরাজিত করতে হলে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হতে হবে।
 
মন্ত্রী বলেন, ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র পুড়িয়ে দেওয়া সঙ্গীতাঙ্গন বিনির্মাণ করা হবে। সেখানে ছবি আঁকার কাজ চলছে। প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, বড় অনুষ্ঠান করে আবার ওই সঙ্গীতাঙ্গন উদ্বোধন করা হবে।
 
ঘটনা ঘটলেই ইতিহাস হয়ে যায় না। ইতিহাস হতে সময় লাগে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আজ ইতহাসে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প, কবিতা, উপন্যাস অনেক লেখা হয়েছে। কিন্তু অনুবাদের অভাবে তা বিশ্ব সাহিত্যে আমরা তুলে ধরতে পারিনি। আমাদের সাহিত্যের অনুবাদ হওয়া দরকার।
 
মঈনূদ্দিন কাজলের ‘স্টোরিজ অব লিবারেশন ওয়ার’ ও প্রেমের গল্প গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক, গবেষক হায়াৎ মামুদ।
 
সভাপতির বক্তব্যে হায়াৎ মামুদ বলেন, আজকের দিনের ছেলেমেয়েরা মুক্তিযুদ্ধের কথা জানে না। কারণ বাড়িতে আজ মুক্তিযুদ্ধের গল্প হয় না। এটা এক ধরনের পারিবারিক ব্যর্থতা আমাদের।
 
পাকিস্তানের কোনো পণ্য ছুঁয়ে দেখেন না উল্লেখ করে দেশের খ্যাতিমান এ লেখক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করতে পারেননি, অন্তত পাকিস্তানি আর্মিদের বর্বরতাকে ঘেন্না তো করতে পারেন। নাকি তাও পারেন না!
 
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অনুবাদক ফারাবিয়া, ড. নীলিমা পারভীন, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী প্রমুখ।