logo

নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে

নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারী- দেশে তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের অধিকার, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। রানা প্লাজা ধস পরবর্তী সময়ে এসব বিষয়ে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে এখন প্রয়োজন দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টদের বন্ধুত্বপূর্ণ সাহায্য। সমন্বিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ কাজে আরো গতি আনা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার হোটেল ওয়েস্টিনে ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট রিভিউ মিটিং’ শীর্ষক দ্বিতীয় পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।  

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রানা প্লাজার পর এখন ২ বছর ৯ মাস পার হয়েছে। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে এমন আর কোন ঘটনা ঘটেনি। এর প্রধান কারণ, এ খাতের উদ্যোক্তারা অনেক সচেতন হয়েছেন। তাদের কারখানা, শ্রমিক সব বিষয়ে তারা এখন কমপ্যাক্ট। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স অবস্থান করছে। তাদের প্রতিবেদনেও এ খাতের উন্নতির ছবি এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমিকরা তদের বেতন-ভাতায় সন্তুষ্ট। কারণ, সরকার তাদের বেতন ২১৯ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এখন তারা মাতৃত্বকালীন সময়ে ছুটি পাচ্ছে। তাদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার রয়েছে। স্কুলে পড়া-লেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের চারজন সদস্যে, আইএলও, কানাডিয়ান হাই কমিশনার, ইউ, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং ও শ্রমিক নেতা।

উল্লেখ্য, কমপ্যাক্টের প্রথম পর্যালোচনা সভা ২০১৪ সালের অক্টোবরে ব্রাসেলসে হয়েছিল। দ্বিতীয় সভা গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা থাকলেও  আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো।  

সংবাদ সম্মেলনে ইউ, ইউএসএ এবং আইএলও-এর পক্ষে মার্কেল জে ডিলানি ও ইউ প্রতিনিধি ডেন কার্নিয়া জানান, তারা দ্বিতীয় এ সভা নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে আরো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।  

২০১৩ সালের এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প এবং নিটওয়্যার শিল্পে শ্রমিকের অধিকার এবং কারখানায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার, আইএলও এবং ইইউর যৌথভাবে ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট রিভিউ মিটিং’-এর উদ্যোগ নেয়।