logo

সাংসদদের চেয়ে আমলাদের বেতন বেশি নিয়ে আপত্তি

সাংসদদের চেয়ে আমলাদের বেতন বেশি নিয়ে আপত্তি

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি- সাংসদদের চেয়ে আমলাদের বেতন বেশি হওয়ায় আপত্তি তুলেছে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আপত্তির বিষয়টি জানানোর জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুেষ্ঠয় কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

আজ বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা সংশোধন বিলের ওপর আলোচনা হয়।

সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, চারটি বিলের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদে পেশ করা হবে। তবে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা নিয়ে আপত্তি থাকায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি কমিটি অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। আশা করা যায় তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে যাওয়া যাবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের বেতন ৮২ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত আইনে সাংসদদের বেতন ৫৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল কমিটির বৈঠকে বিলে প্রস্তাবিত সাংসদের বেতন-ভাতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, আমলাদের চেয়ে সাংসদের বেতন কম, এতে সাংসদের মর্যাদা এখানে কমে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর কমিটির সদস্যরা পদমর্যাদাক্রম তালিকায় (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সাংসদদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেন।

এ বিষয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমলাদের বেতন বাড়তে বাড়তে ৮৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর সংসদ সদস্যদের জন্য ৫৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে অজুহাত দেখানো হয়েছে, সংসদ সদস্যরা তো বেতন নেন না, ভাতা নেন। ভাতা তো রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীও নেন। তাদের যুক্তি, রাষ্ট্রপতি হলেন প্রজাতন্ত্রের সবার ওপরে, তাই তার বেতন এক নম্বরে রাখা হয়েছে। সাংসদেরা পারিতোষিক পান। যদি সেটাই হয়, তাহলে সম্মান এক টাকা করে দিন, আর ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরও বলেন, ‘সাংসদদের ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও অন্যান্য ভাতা বাড়েনি। তাই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি, এগুলো ঠিকঠাক করে নিয়ে আসতে। সবকিছুর প্রাণভোমরা হলেন ১৫১ সদস্য। ১৫১ জন হলেই তো সরকার গঠন হবে, সংসদ থাকবে, তারপরেই না আমলা বা অন্যান্যদের বেতন-ভাতা বাড়বে।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শামসুল হক, জিয়াউল হক মৃধা ও সফুরা বেগম অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাংসদ মইন উদ্দিন খান বাদল ও কামরুন নাহার জলি এতে উপস্থিত ছিলেন।