logo

বাংলাদেশে দুর্নীতি আগের মতোই: টিআই

বাংলাদেশে দুর্নীতি আগের মতোই: টিআই

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি- গত একটি বছরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ‘দুর্নীতিচিত্রে’ তেমন কোনো হেরফের দেখতে পায়নি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।বার্লিনভিত্তিক এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণাসূচকে’ (সিপিআই) এ বছর বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে এক ধাপ, তবে স্কোর গতবারের সমান।  

বিশ্বের ১৬৮টি দেশ ও অঞ্চলে ২০১৫ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা এই সূচকে ২৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভাল থেকে খারাপ) ১৩৯ নম্বরে। আর উল্টোভাবে হিসেব করলে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় এবার বাংলাদেশ রয়েছে ত্রয়োদশ স্থানে।

আগের বছর ১৭৫টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এই সূচকে একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভাল থেকে খারাপ) ছিল ১৪৫ নম্বরে। আর উল্টোভাবে হিসেব করলে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় ছিল চতুর্দশ অবস্থানে।

১০০ ভিত্তির এই সূচকে শূন্য স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসনের দেশ হিসাবে বিবেচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

আগে দশভিত্তিক সূচকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা হলেও ২০১২ সাল থেকে ১০০ ভিত্তির এই সূচক প্রকাশ করা হচ্ছে। পুরনো প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যায়- ২০১৩ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭, তার আগের বছর ছিল ২৬।


বুধবার বার্লিন থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মূল প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি ঢাকার ধামন্ডিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, “স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থান এক ধাপ কমেছে।… বাংলাদেশের এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সংসদ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও কার্যকর করতে হবে।”

এবারের সূচকে ৯১ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ ডেনমার্ক। গতবছর এ দেশটি একই অবস্থানে ছিল, স্কোর ছিল ৯২। আর টিআইয়ের বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া, স্কোর ৮। একই স্কোর নিয়ে দেশ দুটি গতবারও সূচকে একই অবস্থানে ছিল।

তালিকায় ২৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে গিনি, কেনিয়া, লাওস, উগান্ডা ও পাপুয়া নিউগিনি। টিআইবি বলছে, দুর্নীতির এই সূচক তৈরিতে তারা কোনো ভূমিকা রাখে না, টিআইবির নিজস্ব গবেষণার তথ্যও সিপিআই-তে যায় না।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন ও জরিপ এবং ‘বিশেষজ্ঞ মতামতের’ ভিত্তিতে টিআই কেন্দ্রীয়ভাবে এ সূচক তৈরি করে, যা বিভিন্ন দেশে স্থানীয়ভাবেও প্রকাশ করা হয়।