logo

প্যারিস নিয়ে গর্বিত, ১৭ মিনিটে ইন্টারনেট কাঁপাল আইএস ভিডিও

প্যারিস নিয়ে গর্বিত, ১৭ মিনিটে ইন্টারনেট কাঁপাল আইএস ভিডিও

ইন্টারনেটে ফের বোমা ফাটাল পশ্চিম এশিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)! তবে এ বার শুধু মুণ্ডচ্ছেদ নয়, জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রকাশ করা সতেরো মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় দেখা গেল প্যারিস হামলার মূল চক্রীদের মুখ। দেখানো হল, কত সহজে মানুষের মাথা কাটতে অভ্যস্ত জঙ্গিরা। পাশাপাশি উঠে এল নতুন নাশকতার হুমকি, নতুন সন্ত্রাসের আগাম সতর্কবার্তা!

গত ১৩ নভেম্বর রাতে জঙ্গি হামলায় আলো নিভেছিল আইফেল টাওয়ারের। হামলার দায়ও স্বীকার করে আইএস। আর তার দু’মাসের মাথায় রবিবারই ইরাকে আইএসের সঙ্গে যুক্ত একটি সংবাদমাধ্যমে এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হল। জানানো হল, প্যারিসে লাগামহীন রক্তপাত ঘটানো জঙ্গিদের নিয়ে কতটা গর্বিত তাদের সংগঠন।

ঠিক কী রয়েছে ওই ভিডিওতে? 
ভিডিওর প্রথমেই রয়েছে প্যারিস হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ফুটেজ। আর তার সঙ্গেই রয়েছে হুঁশিয়ারি। জানানো হয়েছে, আইএসের পরের নিশানা ব্রিটেন। জানানো হয়েছে, জঙ্গি নজর থেকে বাদ পড়বে না মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াও।

কেন এই হুমকি?
জবাব দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীই। সম্প্রতি জাকার্তার একটি কফিশপে জঙ্গি হামলার পরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে কয়েক জন জঙ্গি (জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে ধৃত জঙ্গির সংখ্যা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে সূত্রের খবর, একাধিক জঙ্গিই সে দিন ধরা পড়ে পুলিশের জালে)। সেই গ্রেফতারির বদলা নিতেই এ বার ফের হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ভিডিওটিতে একাধিক বার দেখা গিয়েছে প্যারিস কাণ্ডের মূল চক্রীদেরও। আবদেলহামিদ আবাউদ, বিলাল হাদফি এবং স্যামি আমিমুর-সহ নয় জঙ্গিকেও। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্যারিস হামলার আগে কী কী ভাবে মানুষ মারায় হাত পাকিয়েছে ওই জঙ্গিরা!

ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, মরুভূমির মাঝখানে হাঁটু মুড়ে পাশাপাশি বসে পণবন্দিরা। আর তাঁদের পিছনে দাঁড়িয়ে প্যারিসের হামলাকারীরা। সাধারণত, আইএসের প্রকাশ করা ভিডিওতে জঙ্গিদের মুখ ঢাকা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে, হাসিমুখে এক পণবন্দির গলা কাটছে বিলাল। তবে ক্যামেরার সামনে আবাউদকে কারও মুণ্ডচ্ছেদ করতে দেখা যায়নি।

আর ভিডিও-র শেষের দিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ছবি দেখিয়ে ব্রিটেনে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জঙ্গিরা। আর সব শেষে প্যারিস-কাণ্ডের নয় জঙ্গিকে তাদের প্রস্তাবিত ধর্ম-রাজ্যের ‘সিংহ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, কী ভাবে ওই জঙ্গিদের বীরত্ব ফ্রান্সকে তাদের পায়ে এনে ফেলেছে।

এই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরই এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদকে। ভারতে সফররত ওলাঁদ স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, এমন সব ভিডিও প্রকাশ করে তাঁর দেশকে দমিয়ে রাখা যাবে না। জঙ্গিনিধনে লড়াই চালিয়েই যাবে ফ্রান্স।

জঙ্গিগোষ্ঠীর এই ভিডিও প্রকাশ নিয়ে ইতিমধ্যেই কিছু প্রশ্ন উঠেছে। প্যারিস কাণ্ডের দু’মাস পরে হঠাৎ এমন একটি ভিডিও কেন প্রকাশ করতে গেল আইএস? হামলার দায় তো তারা আগেই স্বীকার করেছে? এক রকম তথ্য প্রমাণ জোগাড় করে ইন্টারনেটে এই হামলার দায় নতুন করে স্বীকার করে এই শক্তিপ্রদর্শনের প্রয়োজন পড়ল কেন?

উত্তর না মিললেও এই ভিডিও প্রকাশের কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু দিন ধরেই সিরিয়া-ইরাকে আইএসের জমি হারানোর একাধিক খবর সামনে এসেছে। এলাকা পুনর্দখলে সম্প্রতি সিরিয়ায় রাতারাতি প্রায় ৩০০ জনকে খুন করেছে জঙ্গিরা। ‘পরিস্থিতির’ বিচারে জঙ্গিগোষ্ঠীর তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল, সংগঠনের আয় কমে যাওয়ায় মুজাহিদদের বেতনও কমানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে খাস পশ্চিম এশিয়ায় আইএস যে কিছুটা হলেও জমি হারাচ্ছে, সে সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে, নতুন করে সংগঠনের ক্ষমতা জাহির করতে চেয়েই সম্ভবত এই ভিডিও প্রকাশ।