logo

খালেদা জিয়ার বাসার ফটকে সাঁটানো হলো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমন

খালেদা জিয়ার বাসার ফটকে সাঁটানো হলো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমন

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি- রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালতের দেওয়া সমন গ্রহণ না করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সাঁটানো দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের জারিকারক জাবিদ হোসেন বাচ্চু ওই সমন নিয়ে গেলে কেউ গ্রহণ করেনি। বিকেল পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে সমন বাসার দরজায় আঁটা দিয়ে সাঁটিয়ে দেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা আমলে নিয়ে সোমবার সমন জারি করেছেন আদালত। আগামী ৩ মার্চ তাঁকে আদালতে হাজির হতে হবে। ঢাকার মহানগর হাকিম মো. রাশেদ তালুকদার এই আদেশ দেন।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৫০৫ ধারায় মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ। তিনি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদেরও সদস্য। এর আগে ২১ জানুয়ারি তিনি মামলা করার জন্য নিয়মানুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেন।

মামলায় বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। 

তবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। 

গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’