logo

সেরেনা আতঙ্কেই কুপোকাত শারাপোভা

সেরেনা আতঙ্কেই কুপোকাত শারাপোভা

মারিয়া শারাপোভা ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে জিতেছিলেন টেনিসের সবচেয়ে গর্বের টুর্নামেন্ট উইম্বলডন ওপেন। সেই শুরু। এরপর বয়স, সৌন্দর্য আর সাফল্য একই মোহনায় মিশে শারাপোভা রাতারাতি হয়ে ওঠেন মহাতারকা। ওই বছর শারাপোভা জিতলেন বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসও। এই দুটি অবিস্মরণীয় সাফল্যই শারাপোভা পেয়েছিলেন তখনকার এক নম্বর তারকা সেরেনা উইলিয়ামসকে ফাইনালে হারিয়ে।

অবিশ্বাস্য এক সূচনা হয়েছিল ক্যারিয়ারটাতে। আবার সেই সূচনা বিন্দুতেই যেন হারিয়ে গেল সাফল্যগাঁথা! ওই এক বছরেই বড় দুই টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারানোর পর সেরেনাকে আর কখনোই হারাতে পারেননি এই রুশ সুন্দরী। টানা ১২ বছর ধরে সেরেনার কাছে হেরেই চলেছেন। ​

শারাপোভার বিপক্ষে টানা ১৮তম জয় তুলে নিয়ে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে চলে গেলেন সেরেনা। ম্যাচ জিতলেন ৬-৪, ৬-১ ব্যবধানে সরাসরি সেটে।

৫৫ মিনিট স্থায়ী প্রথম সেটে তাও কিছুটা লড়াই হলো। তবে দ্বিতীয় সেটে যেন পাত্তাই পেলেন না শারাপোভা। সেরেনা এখন শারাপোভার জন্য বড় এক মানসিক বাধার নামও। নেটের ওপাশে সেরেনাকে দেখলেই সব গড়বড় করে ফেলেন। কিংবা কে জানে, হয়তো নেটের ওপাশে শারাপোভাকে দেখলেই বেশি আগুন জ্বলে ওঠে সেরেনার মনে!

২০০৫ সালে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে দুজনের মহাকাব্যিক ২-৬, ৭-৫, ৮-৬ গেমের ম্যাচটি দিয়েই সেরেনার কাছে শারাপোভার পতনের শুরু। সব মিলিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ের ২১ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছেন শারাপোভা। উন্মুক্ত যুগ শুরুর পর মেয়েদের টেনিসে কমপক্ষে ২১ ম্যাচের মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই কিংবা এর কম জয়ের আর মাত্র দুটি নজির আছে। ক্রিস এভার্ট বনাম ওয়েন্ডি টার্নবুল (২১-১) ও মনিকা সেলেস বনাম কঞ্চিতা মার্টিনেজ (২০-১)। অবশ্য ​মেয়েদের টেনিসের সবচেয়ে একপেশে লড়াই সম্ভবত মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা বনাম পাম শ্রিভারের। নাভ্রাতিলোভার সঙ্গে ৪৩ ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটি জিততে পেরেছিলেন শ্রিভার। অবশ্য শ্রিভার পরে ইএসপিএনের হয়ে টেনিস সাংবাদিক হিসেবে ভালো নাম কামিয়েছিলেন।

সেরেনা-শারাপোভা লড়াইটা ওদিকেই এগোচ্ছে! আজ ম্যাচ শেষে সেরেনার বলা কথাগুলোও তাই শারাপোভার জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার মনে হতে পারে, ‘মারিয়া অসাধারণ লড়াকু একজন খেলোয়াড়, তীব্রতা ও দৃঢ় মনোযোগ নিয়ে ও খেলে। ও এক সময় বিশ্বের এক নম্বর ছিল।এতগুলো গ্র্যান্ডস্লামও এমনি এমনি জেতেনি।’