logo

ভারতের পাঁচ রাজ্য যেগুলি হতে চলেছিল পাকিস্তানের

ভারতের পাঁচ রাজ্য যেগুলি হতে চলেছিল পাকিস্তানের

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল। শত শত ভারতবাসীর তা অভিশাপ হিসাবে মনে রেখে দিয়েছেন। সেই অভিশাপের নাম হল 'দেশভাগ'। ভারতবর্ষ ভেঙে পাকিস্তান জন্ম নেওয়ার সময় ভারতের অনেক ছোট প্রদেশের রাজারাও নিজেদেরকে মহম্মদ আলি জিন্নার পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। নানাবিধ কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ভারতের কোন কোন এলাকা চলে যাচ্ছিল পাকিস্তানে তা দেখে নিন এই প্রতিবেদনে –

ত্রিবাঙ্কুর: ভারতের দক্ষিণ কোলে অবস্থিত এই প্রদেশটি বর্তমানে কেরল রাজ্যের অন্তর্গত। ১৭৯৫ সালে এই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেছিল ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা সময়  ত্রিবাঙ্কুর একমাত্র রাজ্য ছিল যেখানে কংগ্রেস শাসন ছিল প্রশ্নের মুখে? ব্রিটিশ রাজ শেষ হলেও কেন কংগ্রেস ওই রাজ্য শাসন করবে তা নিয়ে বিস্তর মতভেদ তৈরি হয়েছিল। প্রথমে স্থির হয় ত্রিবাঙ্কুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে। মহম্মদ আলি জিন্না পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির জন্য আহ্বানও জানিয়েছিলেন ত্রিবাঙ্কুরের রাজাকে। কেরলের বিশিষ্ট সমাজসেবী স্যার সি পি রামেস্বামী আইয়ারের অনুরোধে এবং স্থানীয় মানুষদের দাবিতে ভারতের অন্তর্গত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ত্রিবাঙ্কুরের রাজা। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

ভোপাল: ব্রিটিশরাজে তিতিবিরক্ত ভোপালের রাজা হামিদুল্লা খান নিজের শাসনাধীনেই রাখতে চেয়েছিলেন ভোপালকে। মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ার কারণে ভোপালকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন জিন্না। যদিও বিষয়টিকে আহ্বানের থেকে দাবি বললেই ঠিক হয়। রাজ্যের সাধারণ জনগণের চাপে দিল্লির শাসনাধীন থাকতে রাজি হয়ে যান রাজা হামিদুল্লা খান। জনশ্রুতি আছে ভোপালের ভারতে অন্তর্ভুক্তির পিছনে ব্রিটিশ কর্তাদের উপদেশ কাজ করেছিল।

যোধপুর: রাজস্থানের অনেক এলাকায় পাকিস্তানের অংশ করে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল মহম্মদ আলি জিন্নার। সীমান্তবর্তী যোধপুর তার মধ্যে ছিল অগ্রাধিকারে। যে কোনও শর্তে যোধপুর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। শোনা যায় যোধপুরের রাজার সব ধরণের শর্ত পূরণ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে ভারতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে দোলাচলে পরে যান যোধপুরের রাজা। স্থির করে ফেলেন ভারত-পাক দুই দেশের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র হবে যোধপুর। কিন্তু, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের হস্তক্ষেপের ফলে যোধপুর এখন ভারতের অংশ।

জুনাগড়: সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নিজের রাজ্য গুজরাতের জুনাগড় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। যদিও ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন। জনমত জানতে গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। ৯৯.৯৫ শতাংশ মানুষ ভারতবাসী হওয়ার রায় দিয়েছিলেন সেই গণভোটে। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পাকিস্তানের সাহায্য চেয়েছিলেন জুনাগড়ের মুখ্যমন্ত্রী। পাকিস্তানের তরফ থেকে কোনও প্রকার সহায়তা না আসায় জনগণের রায় মেনে ভারতের অন্তর্গত হয়ে যায় জুনাগড়।

হায়দরাবাদ: নিজামের শহর নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দিল্লির শাসনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ধর্মীয় কারণে পাকিস্তানের অন্তর্গত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নিজাম। সুদীর্ঘ আলোচনার পরেও দিল্লির সঙ্গে সমঝোতায় আসছিল না নিজামের প্রতিনিধিরা। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ দল পৌঁছায় হায়দরাবাদে। চার দিনের লড়াইয়ে পর দিল্লির শাসনাধীনে আসে হায়দরাবাদ।

উক্ত পাঁচটি স্থানের সমস্যার সমাধান হয়ে গেলেও সমাধান হয়নি কাশ্মীর সমস্যার। সাত দশক পেরিয়েও ভূস্বর্গ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে দিল্লি আর ইসলামাবাদের মধ্যে।