logo

টি-টোয়েন্টিতে মণীশকে রাখা হল না দেখে অবাক হচ্ছি

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়


টি-টোয়েন্টিতে মণীশকে রাখা হল না দেখে অবাক হচ্ছি

কলকাতা, ২৬ জানুয়ারি- ওয়ান ডে-র যুদ্ধটা কিছুটা হলেও একপেশে হওয়ার পর এ বার টি-টোয়েন্টির লড়াই। মনে হয় না, এ বারের লড়াইটা একপেশে হবে বলে। বরং হাড্ডাহাড্ডি একটা সিরিজ দেখার অপেক্ষায় আছি।

যদিও এই ফর্ম্যাটে ভারত সম্প্রতি খুব একটা ভাল খেলেনি। তবে এই সিরিজে মনে হয় না খারাপ খেলবে। অস্ট্রেলিয়ারও একই অবস্থা। তবে শন টেট ও শেন ওয়াটসন দলে ঢোকায় ওদের বোলিংয়ে ধার আরও বাড়বে।

ওয়ান ডে সিরিজের শেষ ম্যাচটার ছন্দ ধরে রাখতে পারলে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তা কাজে লাগবে। ওয়ান ডে-র পাঁচটা ম্যাচেই ভারতের ব্যাটিং যথেষ্ট ভাল হয়েছে। রোহিত শর্মা, শিখর ধবন, বিরাট কোহলিরা এমনিতেই ভাল ফর্মে রয়েছে। ক্যাপ্টেন ধোনি তো আছেই। এদের সঙ্গে যখন যুবরাজ সিংহ, সুরেশ রায়নারা যোগ দেবে, তখন ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ অজিদের যোগ্য জবাব দেওয়ার জায়গায় চলে আসবে।
বিপক্ষ বোলিংকে ধোলাই দেওয়ার মতো অনেক ব্যাটসম্যান আছে ধোনির হাতে। তাই প্রথম এগারো কী ভাবে সাজায় ভারত অধিনায়ক, সেটাই দেখার। নির্বাচকরা গুরকিরাতকে অস্ট্রেলিয়ায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ভেবে অবাক হচ্ছি অজিঙ্ক রাহানের জায়গায় মণীশ পাণ্ডেকে কেন রাখা হল না। এখানেই তো নির্বাচকদের আসল কাজ। কেউ যদি ভাল পারফরম্যান্স করে, তাকে তার পুরস্কার দেওয়া অবশ্যই উচিত। সে জন্যই শেষ ওয়ান ডে-তে অসাধারণ একটা ইনিংস খেলার পরও মণীশ দেশে ফিরে আসছে দেখে অবাক লাগল।

নিঃসন্দেহে জসপ্রীত বুমরাহর দলে আসাই উচিত। কিন্তু প্রশ্নটা হল, ওকে সঙ্গ দেবে কে? আশিস নেহরা, উমেশ যাদব ও ঋষি ধবন? নেহরার এটা দারুণ কামব্যাক। আমি নিশ্চিত, ও এই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। আইপিএলে চেন্নাইয়ের হয়ে যথেষ্ট ভাল বল করেছে ও। সে জন্যই ওকে ফেরানো হয়েছে। এখন যদি এই সিরিজে ও রকমই ভাল বোলিং করে, তা হলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওর জন্য দরজা খুলে যেতেই পারে। বয়স ৩৬ হলেও চার ওভারের বোলিংয়ে নেহরা এখনও ভাল কিছু করতেই পারে।

রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাডেজা ও হরভজন সিংহর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়াটা মোটেই সহজ হবে না। তবে ভারত মনে হয় দুই স্পিনার নিয়ে নামবে।

এই ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অন্য ক্যাপ্টেন। অ্যারন ফিঞ্চ। প্রথম ম্যাচে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে পাওয়া যাবে না। ম্যাক্স আর ওয়ার্নার খেলার চেহারাই বদলে দিতে পারে। ম্যাক্স আবার মিড ওভারে কার্যকরী বোলিংটাও করে দিতে পারে। ওদের ব্যাটিং লাইন-আপটাও বেশ লম্বা আর কোনও একজনের উপর নির্ভর করে না। সদ্য ওদের বিগ ব্যাশ শেষ হয়েছে। এখান থেকে অনেক নতুন প্রতিভা উঠে এসেছে। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে খেলার মধ্যেই আছে তারা। অ্যাডিলেড ওভালের উইকেটও ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করে থাকে। তাই আশা করি অ্যাডিলেডে আজ, মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচটাই জমে উঠবে।