logo

রাজধানীর ‘বাস সিন্ডিকেটকে’ ‘বশে এনেছেন’ মেয়র আনিসুল

রাজধানীর ‘বাস সিন্ডিকেটকে’ ‘বশে এনেছেন’ মেয়র আনিসুল

টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মেয়র আনিসুল হক

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি- রাজধানী ঢাকায় পরিবহন সঙ্কট নিরসনের বাধা ‘হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেটকে’ তিন হাজার নতুন বাস নামানোর বিষয়ে রাজি করাতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন মেয়র আনিসুল হক।

গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার নয় মাস পর এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি করেন তিনি।

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার সোনারগাঁও হোটেলে টেলিভিশনগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মেয়র আনিসুল। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম’র আওতায় আগামী ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে ঢাকায় তিন হাজার পাবলিক বাস নামাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রাজধানীর দেড় কোটি মানুষ। বাস মালিকদের একটি চক্র নতুন গাড়ি নামাতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর অর্ধেক এলাকার মেয়র আনিসুল বলেন, এ জায়গায় ‘হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট’ কাজ করে, গত ৬ মাস ধরে মালিক কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাইকে নিয়ে বসা হয়েছে।

ঢাকায় ১৯০টি বাস কোম্পানিকে পাঁচটি কোম্পানিতে আনতে রাজি করানোর প্রাথমিক কাজটি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “পাঁচটি কোম্পানি হলে রাস্তার মারামারি কমে যাবে, আধুনিক টিকেটিং ব্যবস্থা হবে।

“আবারও বলি, হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট, মালিকদের রাজি করানো হয়েছে ফিন্যান্স ও কারিগরি সহয়তা এবং ৪.৫% সুদের ব্যবস্থা করার আশ্বাসে। ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে তিন হাজার বাস নামাতে পারলে পরিবহন ব্যবসায়ীরা পুরনো বাস ও মিনিবাস তুলে নেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।”    

দায়িত্ব নেওয়ার নয় মাসে ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত এবং ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে নানা ধরনের কর্মসূচিও তুলে ধরেন আনিসুল হক। গাবতলী, আমিনবাজার, মিরপুর ১২, মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার ১০টি স্থানে রাস্তা-ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

“এর পেছনে যে হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট ছিল, তা বন্ধ করা গেছে। যাদের বড় ব্যবসা নষ্ট হয়ে গেছে, তারা ফিরে আসতে চেষ্টা করবে। এটা যেন আর বসতে না পারে সেজন্য সহযোগিতা চাচ্ছি।” কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারটি স্থানান্তরের চেষ্টায়ও ফল আসছে বলে জানান আনিসুল হক।

“প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা কারওয়ান বাজার তিন স্থানে শিফট হোক। এক ধরনের বরফ গলতে শুরু করেছে, কেউ কেউ রাজি কেউ কেউ রাজি নয়। আমি হতাশ নই, সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”

সভার শুরুতে মেয়র জানান, বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে ২০ হাজার ছোট-বড় বিলবোর্ড নামানো হয়েছে, যারা এখনও নামাননি তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। আগামী অগাস্টের মধ্যে দুই হাজার ডাস্টবিন, ১০০টি পাবলিক টয়লেট স্থাপন ও মোবাইল টয়লেট চালুর পরিকল্পনাও জানান তিনি।

আগামী তিন মাসের মধ্যে দেওয়াল লিখন বন্ধ করার কথাও বলেছেন মেয়র। সভায় চ্যানেল আইয়ের বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ রাতে নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, জলাবদ্ধতা এবং গ্যাস সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান।

সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জুবায়ের বছর ধরে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি বন্ধের আহ্বান জানান। মেয়র এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন।

‘পরিবেশ পুলিশ’ চান মেয়র
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিবেশ রক্ষায় মেয়রের কর্তৃত্বে একশ’ থেকে দেড়শ’ পুলিশ চেয়েছেন আনিসুল হক। “১০০ থেকে ১৫০ ইনভায়রনমেন্ট পুলিশ দিলে ভালো হয়, তারা মেয়রের কন্ট্রোলে থাকবে, তাহলে তাদের জবাবদিহিতা থাকবে। এখানে আমি পুলিশের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা চাই না, এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।”

ঢাকা উত্তরের ২৫ শতাংশ বাড়ির ছাদে বাগান করার পরিকল্পনা জানিয়ে সার ও মাটি সরবরাহে তিনটি ইকো-বাস চালুর পরিকল্পনা জানান মেয়র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বছরের শেষ নাগাদ পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে পুলিশের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।  

‘এক মিনিট সময় দিন’
ঢাকা নগরীকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান পরিবেশনের জন্য টেলিভিশনগুলোকে প্রতিদিন ‘৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট’ সময় বরাদ্দ চেয়েছেন এক সময়ের টিভি উপস্থাপক আনিসুল হক।

মতবিনিময় সভায় টেলিভিশনগুলোর প্রতি মেয়র এই অনুরোধ রাখলে এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহা জানতে চান, এ প্রচারণার জন্য কোনো বাজেট থাকবে কি না? জবাবে আনিসুল হক বলেন, “কোনো বাজেট থাকবে না, এ বিষয়ে সহযোগিতা চাচ্ছি।”

সভায় একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মাছরাঙা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফাহিম মুনয়েম, একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া জামান,  এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ ই মামুন, এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান সরকার ফিরোজ, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান বক্তব্য রাখেন।