logo

লেজ দিয়েই পাকিস্তানকে ‘ছোবল’ নিউজিল্যান্ডের

লেজ দিয়েই পাকিস্তানকে ‘ছোবল’ নিউজিল্যান্ডের

লেজের ব্যাটসম্যানরাই বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডকে।

মার্টিন গাপটিল, টম লাথাম আর কেন উইলিয়ামসন—নিউজিল্যান্ডের এই তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত সংগ্রহ ২৫। ২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্নের ফাইনালের পর এই প্রথম কিউই টপ অর্ডারকে এতটা ভঙ্গুর মনে হলো। রান পাননি গ্রান্ট এলিয়ট, কোরি অ্যান্ডারসনের মতো পরীক্ষিতরাও।

স্কোরবোর্ডে ১০০ জমা হওয়ার আগেই নেই ৬ উইকেট! নিউজিল্যান্ডের এমন বিপর্যয়ের পর স্কোর কত হতে পারে? খেলার খোঁজটা না নিয়ে থাকলে উত্তর চমকে দেবে। ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে ২৮০ করেছে নিউজিল্যান্ড! ফণা দিয়ে নয়, টেল এন্ডারদের ​লেজ দিয়েই পাকিস্তানকে ছোবল দিল নিউজিল্যান্ড! ৪ উইকেটে ১৬৮ তুলে ফেলেও পাকিস্তান দুই রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে হয়ে গেল ৬ উইকেটে ১৭০। আপাতত আর কোনো উইকেট না পড়লেও শেষ ৭ ওভারে ওই চার উইকেট নিয়েই ৭৮ তুলতে হবে পাকিস্তানকে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারে ৮, ৯ ও ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা তিন ব্যাটসম্যান মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি আর মিচেল ম্যাকক্লেনাহানের তিনটি কার্যকর ইনিংস বাঁচিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংকে। প্রথম দুজন করেছেন ৪৮, তৃতীয়জন আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে মাত্র ১৮ বলে করেছেন ৩১। প্রথম ছয় উইকেটে ৯৯ রান তোলা নিউজিল্যান্ড পরের তিন জুটিতে যোগ করেছে ১৮১!

নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের জেয়ে পাকিস্তানের ব্যর্থতা চোখে পড়ছে বেশি। দুই ​উদ্বোধনী বোলার মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ আমির যে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন, সেটির ওপর ভিত্তি করে স্বাগতিকদের ওপর চাপ ধরে রাখতে পারেনি পাকিস্তান। সপ্তম ও অষ্টম উইকেটে ৭৯ ও ৭৭ রান তুলে স্যান্টনার, হেনরি আর ম্যাকক্লেনাহান মাতিয়ে দেন ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের দর্শকদের।

টপ অর্ডারের সবাই ব্যর্থ হলেও চারে নেমে এক প্রান্ত আগলে রেখে হেনরি নিকোলাসের খেলা ৮২ রানের ইনিংসটিকেও বাহবা দিতে হচ্ছে। তাঁর ইনিংসটিই যে ছিল শেষ দিকে হাত খুলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে স্যান্টনারদের। শেষের এই তিন ব্যাটসম্যান ঢুকে গেছেন ক্রিকেটের দারুণ একটা রেকর্ডেও। ইতিহাসে এই প্রথম মতো কোনো ওয়ানডে ম্যাচে ৮, ৯ ও ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা তিন ব্যাটসম্যানের সবাই ৩০ বা ততোধিক রানের ইনিংস খেললেন।

২৮০ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটামুটি হয়েছিল পাকিস্তানের। দলীয় ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক আজহার আলী (১৯) এরপর ১৩ রানে অপর ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ফিরলে কিছুটা বিপর্যয়ের মধ্যেই পড়ে পাকিস্তান। তবে মোহাম্মদ হাফিজ আর বাবর আজম পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হাফিজ ৪২ ও বাবার ৬২ রান করে আউট হলে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। ২৭ রানে অপরাজিত সরফরাজ আর ১৬ রানে অপরাজিত আনোয়ার এখন ভরসা হয়ে আছেন পাকিস্তানের।