logo

হৃৎপিণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে যে দুই প্রোটিন

হৃৎপিণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে যে দুই প্রোটিন

হৃৎপিণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী কোনো বিষয় সম্পর্কে আগে জানা ছিল না গবেষকদের। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দুটি প্রোটিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ দুটি প্রোটিন হৃৎপিণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে এএনআই।

সম্প্রতি আবিষ্কৃত দুটি প্রোটিন হৃৎপিণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, এ দুটি প্রোটিনের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে গবেষণাটিতে গবেষকদের দলনেতা ড. গুয়াডালুপ স্যাবিও। তিনি স্পেনের সেন্ট্রো ন্যাশিওনাল ডি ইনভেস্টিগেসিওনেস কার্ডিওভাস্কুলের্স কার্লস থ্রি (সিএনআইসি)-এর গবেষক। তিনি জানান, এ গবেষণার ফলাফল হৃৎপিণ্ডের কোষগুলো গঠিত হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। এ ছাড়া এর ফলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, যে তথ্য ব্যবহার করে অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। হৃৎপিণ্ডের অতিরিক্ত বৃদ্ধি অনেক সময় মারাত্মক সমস্যা ডেকে আনে, এ গবেষণায় সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া প্রোটিন দুটির নাম পি৩৮ গামা ও পি৩৮ ডেলটা। এ দুটি প্রোটিনই হৃৎপিণ্ড বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান গবেষকরা।

হৃৎপিণ্ড জীবনের প্রতি স্তরেই এর আকার পরিবর্তন করে। এভাবেই এটি দেহের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। আর এ উপায়েই এটি গর্ভাবস্থায় পরিবর্তিত হয়, যাকে কার্ডিয়াক হাইপারট্রফি বলা হয়।
অতিরিক্ত শারীরিক অনুশীলন, হাইপারটেনশন ও মাত্রাতিরিক্ত দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে হৃৎপিণ্ড অতিরিক্ত বড় হয়ে যেতে পারে। একে প্যাথলজিক্যাল হাইপারট্রফি বলা হয়। হৃৎপিণ্ডে এ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা থেকে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ গবেষণায় দেখা গেছে পি৩৮ গামা ও পি৩৮ ডেলটা নামে প্রোটিন দুটি হৃৎপিণ্ডের বড় ও শক্তিশালী প্রকোষ্ঠ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

ড. স্যাবিও বলেন, নতুন তথ্যে হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা দূর করা সহজ হবে। এতে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির অনাকাঙ্খিত বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে অগ্রগতি হবে এবং বহু রোগীর হৃদরোগ নিরাময়ে সহায়ক হবে। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচারাল কমিউনিকেশনস জার্নালে।