logo

বিশ্রামের আগে কতক্ষণ কাজ করতে সক্ষম মস্তিষ্ক?

বিশ্রামের আগে কতক্ষণ কাজ করতে সক্ষম মস্তিষ্ক?

আট ঘণ্টার কর্মদিবস পুরনো আমলের চিন্তাধারা। কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আরো বেশি উৎপাদনশীল ও কর্মমুখী করতে হলে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। শিল্পবিপ্লবের সময় ৮ ঘণ্টার কর্মদিবসের নিয়ম প্রচলিত হয়। পেশাক্ষেত্রকে আরো মানবিক করা হয় এ নিয়মের মাধ্যমে।

পুরনো আমলের মতোই আমরা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করি। এ সময় খুব কম বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা চালাই। অনেকে লাঞ্চের সময়টিতেও কাজ করতে থাকেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বিশ্রাম অতি জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমাদের মস্তিষ্ক টানা কাজ করতে পারে। এরপর বিশ্রামের প্রয়োজন। নয়তো বিপদ।

সম্প্রতি এক গবেষণায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজের নানা অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর জন্যে একটি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়। কর্মীরা বিভিন্ন কাজে কতটুকু সময় ব্যয় করেন এবং তাদের উৎপাদনশীলতা তুলনা করা হয়। গবেষণা দেখা যায়, অফিসে কত ঘণ্টা কাজ করা হয় তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং তারা দিনটাকে কিভাবে গুছিয়ে আনেন তা আরো বেশি প্রভাবশালী। একটানা বহুক্ষণ কাজ যারা করেন, তাদের চেয়ে নিয়মিত বিশ্রাম নিয়ে যারা কাজ করেন তারাই বেশি উৎপাদনশীল থাকেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা কাজের পর বিশ্রামের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসাবটি এমন- টানা ৫২ মিনিট কাজের পর ১৭ মিনিটের ব্রেক মানুষ সবচেয়ে বেশি কর্মমুখী করে তোলে। যারা এ নিয়মটি মেনে চলেন তারা বিস্ময়করভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

এখন মানুষের মস্তিষ্কের একটানা কাজের ক্ষমতা রয়েছে। একেক মানুষের মস্তিষ্ক হয়তো একেক সময় পর্যন্ত টানা কাজ করতে পারে। তবে গড় সময়টি বের করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মস্তিষ্ক টানা ১ ঘণ্টা সুস্থভাবে কাজ করতে পারে। এর পরই ১৫ মিনিটের বিশ্রাম চায়। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা প্রথম ১ ঘণ্টা তুঙ্গে থাকে। তখন যেকোনো ভারী কাজ অনায়াসেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এরপর ১৫ মিনিটের বিশ্রাম দিলে আবারো চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

কর্মদিবসের নিয়ন্ত্রণ নিন : টানা ৮ ঘণ্টার কাজের সময়টাকে কৌশলপূর্ণভাবে ভাগ করে নিন। যখন আপনার ভেতরের সহজাত শক্তির সঙ্গে এ কৌশলের মিশ্রণ ঘটবে তখনই আপনি এক দারুণ ছন্দে উপনীত হবেন।

ঘণ্টা ধরে দিন ভাগ করে নিন : আমাদের সাধারণ লক্ষ্য থাকে, দিন শেষে সব কাজ যেন শেষ করতে পারি। কিন্তু আরো সূক্ষ্ম হিসাব করতে হবে। ধারাবাহিক কাজের ক্ষেত্রে প্রতিঘণ্টা পর পর ব্রেকের পরিকল্পনা করে নিন।

কাজের সময়টাকে গুরুত্ব দিন : ধরুন, টানা এক ঘণ্টা কাজ করবেন। এ সময় আপনার শক্তির মাত্রা তুঙ্গে। কাজেই মনোযোগের সঙ্গে কাজ করে যান। তবে বাড়তি কাজে সময়ের অপচয় করবেন না। ইমেইল দেখা বা ফেসবুকিং ইত্যাদি কাজ পরে করুন।

বিশ্রাম নিন : সত্যিকার অর্থেই বিশ্রাম নিন। এ কাজটাকে বাস্তবায়িত করুন। উৎপাদশীল উপায়ে বিশ্রাম নিন। একটু চোখ বন্ধ করে জিরিয়ে নিন। অথবা খোলা বাতাসে হাঁটাহাঁটি করে আসুন। একটু স্ন্যাক্সস খেয়ে নিন।

অপেক্ষায় নয় : অধিকাংশই ভাবেন, দেহ যতক্ষণ ক্লান্ত না হচ্ছে ততক্ষণ কেউ বিশ্রাম নিতে চান না। দেহ নিজেই বলে দেয় বিশ্রাম প্রয়োজন। এর জন্যে অপেক্ষায় থাকতে নেই। আপনি ফুরফুরে থাকুন বা নাই থাকুন, একটানা ঘণ্টাখানেক কাজ করে তারপরই বিশ্রাম নিন ১৫ মিনিটের। এর পরের ঘণ্টা আগের মতোই মনোযোগের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার