logo

অনলাইন নয়, সরাসরি যোগাযোগই ভালো বন্ধুত্বের মূলমন্ত্র

অনলাইন নয়, সরাসরি যোগাযোগই ভালো বন্ধুত্বের মূলমন্ত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে এখন বন্ধুত্ব গড়তেও অনলাইনের সহায়তা নিচ্ছেন বহু মানুষ। তবে এটি শেষ কথা নয়। গবেষকরা বলছেন, অনলাইন বন্ধুত্ব নয়, বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বই কার্যকর।

কারো সঙ্গে ভালোভাবে বন্ধুত্ব গড়তে চাইলে অনলাইন নয়, বাস্তবে তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় এ বন্ধুত্ব যেমন ঠুনকো বিষয়ে পরিণত হয় তেমন তা নানা বিপদও ডেকে আনতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ফেসবুকের লাইক কখনোই বাস্তব জীবনে কার্যকর কোনো বিষয় হয় না।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সম্প্রতি গবেষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্বের এ বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। আর এ কারণে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুর সংখ্যা কম রেখে তার বদলে বাস্তব জীবনে বন্ধুর সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

গবেষকদলের প্রধান সু ফাজ বলেন, ‘যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধুত্ব তৈরি ও তা টিকিয়ে রাখতে কার্যকর বিষয় বলে মনে হয়.... বাস্তবে সত্যিকার বন্ধুত্ব গড়ার জন্য মুখোমুখি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার, সেলফি ও লাইক কারো সঙ্গে বাস্তব জীবনে খাবার ভাগাভাগি করা, অভিজ্ঞতা ও গল্প করার মাধ্যমে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তার কোনো বিকল্প নেই।’

গবেষণাটিতে মূলত মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করা হয়। এতে উঠে আসে সামাজিকতার দিক দিয়ে অনলাইনের সঙ্গে বাস্তব জীবনের পার্থর্কের বিষয়টি।

গবেষকরা জানান, মানুষের মস্তিষ্কে ১০০ থেকে ২০০ জন পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। অনলাইনে এর চেয়ে বেশি মানুষ বন্ধু হতে পারে। কিন্তু তারা সত্যিকার বন্ধু হয় না। গবেষকরা জানান, এ সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা সম্পর্ক বজায় রাখা একজন মানুষের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব বিষয়।

এ গবেষণার জন্য ৩,৩০০ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে তাদের বাস্তব জীবনে বন্ধু ও অনলাইনে বন্ধুর সংখ্যা ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, একজন সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর বন্ধু থাকে ১৫৫ থেকে ১৮৩ জন। এতে দেখা যায়, পুরুষের তুলনায় নারীর বন্ধু বেশি।

প্রফেসর ডানবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে সম্পর্কের মান কমানোর জন্য দায়ী। এর কারণ আমরা বন্ধুর সঙ্গে শুধু মুখোমুখি দেখা করি না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে রয়াল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে।