logo

যার হাত ধরে আজকের অভিজাত বেইজিং...

যার হাত ধরে আজকের অভিজাত বেইজিং...

সুউচ্চ, চোখ ধাঁধানো, বর্ণিল কোনো বিল্ডিং নেই, এমন বেইজিং শহরের কথা কল্পনা করতে পারেন? ভাবছেন চাকচিক্য, আভিজাত্য আর সুউচ্চ বিল্ডিংই যদি না থাকে, তাইলে সেটা বেইজিং হতে যাবে কেন? আজকের যে বেইজিংকে দেখছে বিশ্ববাসী, তার স্বপ্নদ্রষ্টা একজন নারী। ২০ বছর আগে তিনি এমন সব পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার ফলাফল আজকের অভিজাত বেইজিং।

‘সোহো চায়না’ নামের রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সিইও ঝাং জিন। বেইজিংয়ের অধিকাংশ আকাশচুম্বি ভবনগুলো বিশ্বের অন্যতম ধনী এ নারীর হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে। রিয়েল এস্টেট শিল্পে পুরোপুরি বিপ্লব ঘটিয়ে ’চীনের রিয়েল এস্টেট মুঘল’ নামে খ্যাতি পেয়েছেন। হতদরিদ্র অবস্থা থেকে এখন মাল্টি বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছেন। তার রিয়েল এস্টেটকে চীনে তো বটেই, সমগ্র বিশ্বের মধ্যেই অন্যতম হাই প্রোফাইল রিয়েল এস্টেট কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনের যে দুই তৃতীয়াংশ বিলিওনিয়ারকে ‘সেল্ফ মেড’ বিলিওনিয়ার বলা হয়, তাদের মধ্যে ঝিং জিন অন্যতম। চীন সবচেয়ে বেশি নারী বিলিওনিয়ারের দেশ।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে হংকংয়ের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন জিন। পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বৃত্তি পেয়ে সেখানে পড়তে যান। পরে কাজ করেন গোল্ডম্যান স্যাকস এন্ড ট্রাভেলারস গ্রুপের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে।

১৯৯৫ সালে স্বামী পান শিয়ি’র সাথে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘সোহো চায়না’। নিজের অতীতকে ‘উগ্র’ ও ’বিরক্তিকর’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। ঝাং জিনের সম্পত্তির সাথে মার্কিন টেলিভিশন তারকা অপরাহ উইনফ্রে’র সম্পত্তির তুলনা করা হয়।
আরেক সুপারস্টার স্থপতি জারা হাদিদের সাথে মিলে চীনের বাণিজ্যিক স্থপনাগুলোতে নতুন মাত্রা দেয়ার নতুন এক মিশনে নেমেছেন জিন।
 
ডাভোস ডব্লিউইএফ সম্মেলনের এক ফাঁকে নিজের উত্থান, পরিকল্পনা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেছেন সিএনএন’র ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরের সাথে।
 
আমানপোর: দারিদ্রতা জর্জরিত চীনের সাধারণ একটি মেয়ে থেকে আজ মাল্টি বিলিয়ন ডলারের মালিক!আপনি তো ১৪ বছর বয়সে একটি ফ্যাক্টরিতেও কাজ করেছেন...
জিন: পড়াশোনার জন্য আমার ইংল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আমি যখন চীন ছেড়ে যাই, সেসময় অর্থাৎ আশির দশকে চীনে কারও কাছে কোনো টাকা ছিল না। সে অবস্থায় শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে কেউ একজন বিদেশ পড়তে যাচ্ছে, এটা ছিল একটা বিশাল ঘটনা। আমি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে যে টাকা জমিয়েছি, সেটা দিয়ে সর্বোচ্চ লন্ডনের বিমান টিকিটের দামটাই পরিশোধ করা যেত, এর বেশি কিছু নয়।
 
আমানপোর: তখনও তো আপনি ইংরেজি জানতেন না।
জিন: না। আমি বিশ বছর বয়সে ইংরেজি শেখা শুরু করি।
 
আমানপোর: আপনার প্রতিষ্ঠিত সোহো চায়না তো একটি মানব হিতৈষী কোম্পানি। চীনের মতো একটি দেশে কীভাবে আপনারা মানব কল্যাণে অর্থায়নের কথা চিন্তা করলেন?
জিন: আমরা সবসময় চীনের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় হয়েছি, যেখানে রাষ্ট্র সকল সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। আমি যখন মানব কল্যাণে কাজ করার পরিকল্পনা করি তখন কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগের ধারণার কথা কেউ কেউ বলতে শুরু করেছে। আমি নিজেকে এ প্রকল্পের বড় অংশীদার মনে করলাম। আমি জীবনে শিক্ষা থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। শিক্ষিত হওয়ার কারণে বহু অর্থ উপার্জন করতে পেরেছি। তাই শিক্ষায় বিনিয়োগ করাকেই আমি সর্বাধিক গুরুত্ব দিলাম।
 
আমানপোর: চীনের অর্থনীতিতে ইদানিং একটা মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে..
জিন: এটা ঠিক যে আমরা একটু মন্দাভাবের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। আমার কোম্পানির মতো বহু কোম্পানি এখন বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। গত ২০ বছর ধরে সবাই উন্নয়ন বলতে বুঝেছে, এক খণ্ড জমি কিনো, সেখানে একটি সুউচ্চ বিল্ডিং নির্মাণ করো। অধিকাংশ মানুষই এ উপায়ে সফলও হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের এ সীমা এখন প্রায় শেষের দিকে। আমাদেরকে পরবর্তী ধাপে যতে হবে এখন।
 
আমানপোর: আপনার স্বামীও দরিদ্র অবস্থা থেকে এখন অন্যতম ব্যাবসায়ী হয়েছেন। কিন্তু একজন নারী হিসেবে বাণিজ্যিক বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন, এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
জিন: আমি সবসময় সুযোগের কথা বলি। যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। চীনে গত ২০ বছরে উন্নয়নের যে সুযোগ ছিল, পৃথিবীর অনেক দেশেই এখনো সে সুযোগ আছে। যেমন চীনের সীমান্তবর্তী মিয়ানমার। দেশটি উন্নতি করছে, সেখানে প্রচুর কাজের সুযোগ আছে।
 
আমানপোর: যখন আমি পড়ি ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপরাহ উইনফ্রের চেয়ে ঝাং জিং বেশি ধনী...
জিন: (হেসে) এটা একটা কৌতুক।
 
আমানপোর: এটি কী সত্যি?
জিন: আমি আসলে সত্যি আমার অর্থের পরিমাণ জানি না (হেসে)।