logo

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল ভারত

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল ভারত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হারতে হারতে বেশ ক্লান্ত টিম ইন্ডিয়া। টানা চার ম্যাচ হেরে ভারত সিরিজ খুইয়েছে আগেই। সিরিজের পঞ্চম ম্যাচটি ছিল তাদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর মিশন। সেই মিশনে অবশেষে সফল ধোনি শিবির। শনিবার রোহিত শর্মার নার্ভাস নাইনটিজ ও শেষে মনিশ পাণ্ডের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পরম আরাধ্যের জয়ের দেখা পেয়েছে ভারত। সিডনিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সিরিজ জয় না হোক, এই জয়ে ধবলধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েই যেন গোটা ভারত শিবিরে স্বস্তির ছোয়া। তবে শেষ ম্যাচে হারলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে মাথাটা উচুই থাকল অসি শিবিরের।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই উড়ছিল। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের জোড়া সেঞ্চুরির কল্যাণে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রানের বড় পুঁজি সংগ্রহ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভারতের সামনে স্মিথের দল ছুড়ে দেয় ৩৩১ রানের টার্গেট।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের সূচনাটা ছিল দারুণ। উদ্বোধনী জুটিতে ১৮.২ ওভারে ১২৩ রান জমা হয় সফরকারীদের  স্কোরশিটে। শুরুতেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শিখর ধাওয়ান। ৫৬ বলে ৭৮ রান করেন তিনি। ভারতের এই ওপেনারের ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। জন হ্যাস্টিংসের শিকার হয়ে শিখর বিদায় নিলে সফরকারীদের রানের চাকা কিছুটা মন্থর হয়ে যায়।

এদিন ব্যাট হাতে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বিরাট কোহলি। ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় হ্যাস্টিংসের বলে ম্যাথু ওয়েডের তালুবন্দি হন আগের দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান। এরপর মনিশ পাণ্ডের সঙ্গে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে জয়ের পথেই রাখেন রোহিত শর্মা। দলীয় ২৩১ রানের মাথায় আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নেন রোহিত। তার আক্ষেপটা মাত্র ১ রানের! শিকার হন ‘নাভার্স নাইনটিজের’। ব্যক্তিগত ৯৯ রানে হ্যাস্টিংস দারুণ এক ডেলিভারিতে কাটা পড়েন রোহিত। তার ১০৮ বলে ইনিংসটি ছিল নয়টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো।

ভারতের জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর দায়িত্ব পড়ে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কাঁধে। মনিশ পাণ্ডেকে নিয়ে লড়তে থাকেন তিনি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান। ওয়াইড দিয়ে এই ওভার শুরু করেন মিচেল মার্শ। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান ধোনি। তবে পরের বলে আউট হন তিনি।

এরপর জয়-পরাজয়ের দোলাচলে ভারতভক্তরা। কিন্তু না। রোমাঞ্চ ছড়াতে পাণ্ডেও যে কম যান না! ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ব্যবধান কমান তিনি। পরের বলে নেন দুই রান। আর তাতে ২ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ভারত। এর মাঝে নিজের সেঞ্চুরিটাও পূর্ণ করেন পাণ্ডে। শেষ পর্যন্ত ৮১ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন মনিশ  পাণ্ডে।   

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছেন জন হ্যাস্টিংস। বাকি উইকেটটি গেছে মিচেল মার্শের দখলে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল ধাক্কা খেয়েই। দলের স্কোরশিটে মাত্র ৬ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অ্যারন ফিন্স। ইশান্ত শর্মার বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি (৬)। অস্ট্রেলিয়া সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা জুটি গড়েন ৫৮ রানের। কিন্তু স্মিথ বেশিদূর এগোতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২৮ রানে জসপ্রিত বুমবার শিকারে পরিণত হন তিনি। এরপর স্বাগতিকরা ফের বিপদে পড়ে জর্জ বেইলি (৬) ও শন মার্শের (৭) দ্রুত বিদায়ে।

পঞ্চম উইকেটে ১১৮ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়াতে পথ দেখান ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। তারা দু’জনই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ১১৩ বলে নয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১২২ রান করেন ওয়ার্নার। তাকে সাজঘরে ফেরান ইশান্ত শর্মা। মিচেল মার্শ করেন অপরাজিত ১০২ রান। ৮৪ বলে নয়টি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে ঝড়ো ইনিংসটি সাজান এই অলরাউন্ডার। এছাড়া ম্যাথু ওয়েড করেন ২৭ বলে ৩৬ রান।

ভারতের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা ও জসপ্রিত বুমরা। আর ১টি করে উইকেট দখলে নেন উমেশ যাদব ও ঋষি ধাওয়ান।