logo

সিডনিতে বড় লজ্জার সামনে ধোনিরা!

সিডনিতে বড় লজ্জার সামনে ধোনিরা!

সিডনি, ২৩ জানুয়ারী- মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে যেখানে হাত দিয়েছেন সেখান থেকেই সাফল্য তুলে এনেছেন।  ২০০৭এ প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ এরপর ২০১১ সালে ২৮ বছর পর ভারতকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো সবই হয়েছে তার আমলে। ভারত টেস্ট ক্রিকেটে  শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল ধোনির জমানায়। সেই তারই নেতৃত্ব এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা চার ম্যাচে হার ধোনির অধিনায়কত্বকে নড়বড়ে করে দিয়ে গেছে! শনিবার বাংলাদেশ সময় ৯.২০ মিনিটে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) হবে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম এবং শেষ ম্যাচটি।

ম্যাচটি জিততে পারলে অন্তত হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচতে পারবে ভারত। সিরিজ আগেই চলে গেছে, ধোনির দল কি পারবে শেষ ম্যাচে সান্তনার জয় তুলে নিতে? এই কাজটা ভারতের জন্য কঠিনই বৈকি! কারণ যে চারটি ম্যাচ হেরেছে ধোনির দল সেই চারটি ম্যাচেই জয়ের মতো স্কোর তুলে দিয়েছিল ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বোলারদের নিদারুণ ব্যর্থতায় চার ম্যাচের একটিও  জেতা হয়নি ভারতের।

সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানে একই  চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হয়েছে। পার্থে প্রথম ম্যাচে ৩০৯ রান তুলেও হারতে হয়েছে ৫ উইকেটে। ব্রিসবেনে ৩০৮ রান করেও ৭ উইকেটের পরাজয়। মেলবোর্নে ভারতের ২৯৫ রানও কাজে লাগেনি। সবশেষ ক্যানবেরায় রান তাড়া করতে গিয়ে এক সময় মনে হচ্ছিল ভারতের জয় সময়ের ব্যাপার। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে শেষ ৯ উইকেট ৪৬ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে চতুর্থ ম্যাচও হেরে যায় ভারত। অথচ এক সময় ৩৮ ওভারে ১ উইকেটে ২৭৭ রান ছিল ভারতের। শেষ ১২ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৭২ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। সেটাও ভারত সম্ভব করে তুলতে পারেনি।

এরকম অবস্থায় ভারতীয়দের মনোবল যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। কিংকর্তব্যবিমুঢ় অধিনায়ক ধোনিও আসলে কিছু  বুঝে উঠতে  পারছেন না। প্রথম ম্যাচগুলোর জন্য তিনি বোলারদের দুষেছেন। চতুর্থ ম্যাচের দায় ধোনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

৪-০ হয়ে গেছে। এটাকে ৫-০ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া। জন হেস্টিং তো বলেই দিয়েছেন ভারতকে কোন ছাড় নয়। দুর্দান্ত ফর্মে  থাকা  অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জেতাটা যে কঠিন থেকে কঠিনতর হবে সেটা বলা বাহুল্য। তারউপর একটা রেকর্ডের পথে রয়েছে স্টিভেন স্মিথের দল। যদি শনিবারের ম্যাচটি তারা জিততে পারে তাহলে তাদের টানা ১৯টি ম্যাচ জেতা হয়ে যাবে। আর র‌্যাংকিংয়ে অবনমন ঘটে দুই নম্বর থেকে তিনে নেমে যাবে ভারত।

তাই তাৎপর্যহীন ম্যাচও যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে দুই দলের কাছেই। ভারতীয়  দলে এই ম্যাচে সম্ভবত দেখা যাবে না আজিঙ্কা রাহানেকে। তার জায়গায় দলে ফিরতে পারেন মনিশ পান্ডে।  এসসিজির পিচ স্পিনবান্ধব হলে ঋষি ধাওয়ানের জায়গা নিতে পারেন রবিচন্দ্র অশ্বিন। প্রথমবার বিবেচনায় আসতে পারেন অক্ষর প্যাটেলও।

ভারত (সম্ভাব্য): শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, মনিশ পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), গুরকিরাত সিং, রবিন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্র অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মা।

অস্ট্রেলিয়া (সম্ভাব্য): ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), জর্জ বেইলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু ওয়েড, জেমস ফকনার, জন হেস্টিংস, কেন রিচার্ডসন, নাথান লায়ন।