logo

হৃদরোগে উঁচু তলার বাসিন্দাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি

হৃদরোগে উঁচু তলার বাসিন্দাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি

খোলামেলা পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলোসহ নানাবিধ সুবিধা আছে  উঁচু ভবনে থাকার। তবে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আকাশছোঁয়া অট্টালিকায় থাকা পছন্দ করেন না অনেকেই। তবে সবচেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হচ্ছে,বহুতল ভবনের বাসিন্দারা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়।

সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যত উঁচু তলায় থাকবেন হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আপনার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই কম।

কানাডিয়ান একদল গবেষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন সাত হাজার ৮৮২ জনের ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। আক্রান্তরা সবাই টরেন্টোর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় থাকেন।

২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হৃদরোগে অসুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জরুরিভাবে উদ্ধার করেছেন এমন হৃদরোগীদের সংখ্যা বাদ দেয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, তৃতীয় তলার নিচে বসবাসকারী ৪.২ শতাংশ হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে বেঁচে ফিরেছেন।  ১৬ তলার উপরে যারা থাকতেন তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে ফেরার পরিমাণ ০.৯ শতাংশ। আর ২৫ তলার উপরে থাকতেন এমন ৩০ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছিলেন। তারা কেউই বেঁচে ফেরত আসেননি। গবেষণা নিবন্ধটি কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত হয়।

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স্কদের বিশেষ করে বয়স্ক পুরুষদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম থাকে।

টরেন্টোর সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষণার প্রধান লেখক ইয়ান আর ড্রেনান বলেন, বেশকিছু জায়গায় কাজ করা যেতে পারে। দ্রুত প্রবেশের ক্ষেত্রে সামনের দরজা বন্ধ বা সাহায্য করার মতো কেউ নাও থাকতে পারে। উদ্ধাকারীদের জন্য যেন এলিভেটর চালু থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

সঠিভাবে ডিফাইব্রিলেটরস(হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের বুকে চাপ দেয়ার যন্ত্র) ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে হবে। ৯১১(জরুরি নম্বর) ফোন করার পর উদ্ধারকর্মীরা যাতে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে এমন সুবিধা ভবন তৈরির সময়ই রাখা উচিত।