logo

রুশ গুপ্তচর হত্যায় পুতিনের ‘সম্মতি’ ছিল : যুক্তরাজ্য

রুশ গুপ্তচর হত্যায় পুতিনের ‘সম্মতি’ ছিল : যুক্তরাজ্য

লন্ডন, ২২ জানুয়ারি- সাবেক কেজিবি গুপ্তচর অ্যালেক্সান্ডার লিতভিনেনকোকে তেজস্ক্রিয় বিষপ্রয়োগে হত্যা করার পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্মতি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত এই গুপ্তচরের উপরে অনুসন্ধান শেষে এমন ধারনাই পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্য। 

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বিচারক রবার্ট ওয়েন এ ব্যাপারে ৩০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক রুশ গুপ্তচর অ্যালেক্সান্ডারকে হত্যা করার জন্য রুশ নিরাপত্তা সংস্থা এফেসবি (সাবেক কেজিবি) যে অভিযান পরিচালনা করেছিলো সে ব্যাপারে এফেসবি পরিচালক নিকোলাই পেত্রুসেভ এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন খুব সম্ভবত সম্মতি দিয়েছিলেন।’   

লিতভিনেনকোকে ২০০৬ সালে লন্ডনের মিলেনিয়াম হোটেলে এক কাপ চায়ের সাথে পোলনিয়াম-২১০ নামের একটি অত্যন্ত দামী তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (আইসোটোপ হচ্ছে কোন মৌল পদার্থের ক্ষুদ্র পরমাণু বিশেষ) বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হয়। এই জাতীয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ সাধারণত পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়।  

এটা নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ প্রথম যে তদন্ত করেছিল তার উপর ভিত্তি করে উকিলরা হত্যাকারী আন্দ্রেই লুগোভইকে আসামি করেন এবং রাশিয়ার কাছে থেকে অপরাধী হস্তান্তরের দাবি করেন। আন্দ্রেই লুগোভই মস্কোর ক্রেমলিনের (প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন) একজন সাবেক নিরাপত্তা রক্ষী। তিনি লিতভিনেনকোর সাথে হোটেলে বসে চা পান করেছিল এবং সেই সময় চায়ে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন। 

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে লুগোভইর বন্ধু এবং সহকর্মী দিমিত্রি কভতুনের উপরেও খোঁজখবর নেয়া হয়। কারণ কভতুনও ২০০৬ সালের চা পানের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। বিচারক রবার্ট ওয়েন বলেন, ‘যখন লুগোভই লিতভিনেনকোকে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন তখন সম্ভাবনা খুব বেশি যে তিনি কাজটা করেছিলেন এফেসবির তত্ত্বাবধানে। আমি শুধু বলবো এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাছাড়া আমি এখানে সহকর্মী দিমিত্রি কভতুনের জড়িত থাকার প্রমাণও পেয়েছি। এসমস্ত প্রমাণ নির্দেশনা দিচ্ছে এখানে স্বয়ং রুশ সরকার জড়িত ছিলো।’