logo

আগামী বছর চালু হচ্ছে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র

আগামী বছর চালু হচ্ছে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র

ঢাকা, ২১ জানুয়ারী- ডেনমার্কের বিনিয়োগে কক্সবাজারে ২০১৭ সালে চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ডেনমার্কের শ্রমমন্ত্রী জর্ন নিগার্ড লার্সেন এ আশা প্রকাশ করে বলেন, ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ভেস্টাস ইতিমধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় এক বছরের উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। এ বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট হবে বলেও জানান তিনি।

নিগার্ড লার্সেনের নেতৃত্বে সফররত সাত সদস্যের ড্যানিশ প্রতিনিধি দল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠক করেন। এটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত শিল্পমন্ত্রীর দপ্তরে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণায়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, প্রতিনিধিদলের সদস্য পিটার স্টেনগার্ড মার্চ, জ্যাকব হলবার্ড, স্টিফেন ইজেবজার্গ, লিজ রিজগার্ড, মাইকেল জ্যাকোবসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত হ্যান ফুগ এসকেজার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ডেনমার্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পানি পরিশোধন ও পয়োনিষ্কাশনসহ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পরিক সহায়তার বিভিন্ন দিকও আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠকে ডেনমার্কের মন্ত্রী বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প কারখানার কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা বিধানে ডেনমার্ক সহায়তা করতে আগ্রহী। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণেও ডেনমার্ক সহায়তা দেবে। ইতিমধ্যে ৬০ টিরও বেশি ড্যানিশ কোম্পানি বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। উত্তম বিনিয়োগ পরিবেশের কারণে আরও অনেক ড্যানিশ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এ দেশে বিনিয়োগ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে ড্যানিশ বিনিয়োগের প্রস্তাবকে সরকার স্বাগত জানায়। তিনি পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করায় ড্যানিশ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমান সরকার পায়রা সমুদ্র নির্মাণের প্রতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি তুলে ধরেন। পায়রা বন্দর নির্মাণের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ড্যানিশ সহায়তার প্রস্তাব সরকার যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানদের কমপ্লায়েন্স অনুযায়ী বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষাসহ সকল বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি জানান।