logo

প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও উপজেলায় সরকারি কলেজ হবে: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও উপজেলায় সরকারি কলেজ হবে: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

সিলেট, ২১ জানুয়ারী- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। সেই চিন্তা ও পদক্ষেপ বর্তমান সরকারের রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সিলেট মদন মোহন কলেজের হীরক জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধনামন্ত্রী বলেন, ‘যুগোপযোগী শিক্ষার প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা মেধাবী। তাদের মেধা বিকাশের সব চেষ্টা করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘দেশের যেসব জেলায় সরকারি কলেজ ও বিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে সরকারি কলেজ ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় সিলেটে শিক্ষার হার সবচেয়ে কম ছিল। সিলেটের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এখান থেকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেট শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে।’

মদন মোহন কলেজের হীরক জয়ন্তিতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তিনি প্রাথমিক ও নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক ঘোষণা করেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি কমিশন গঠন করে। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে সেটা বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ নিরক্ষর মুক্ত দেশ গঠনের কাজ শুরু করে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার থেকে এ প্রক্রিয়া থেমে যায়। পরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর নিরক্ষর মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে আবার কাজ শুরু করে। বর্তমানে দেশের ৭১ ভাগ মানুষ নিরক্ষরমুক্ত। এটি দ্রুত শতভাগে উন্নীত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মধ্যে সিলেট শিক্ষায় পিছিয়ে ছিল। সিলেটকে এগিয়ে নিতে শিক্ষামন্ত্রী দেওয়া হয় সিলেট থেকেই। প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারীদের ৬০ ভাগ কোটা রাখা হয়েছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে আছেন। তাই প্রক্রিয়াটি সংশোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবছরই রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। আগামীতে সিলেটেও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ করা হবে। তবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর কোর্স থাকবে। মেডিকেল কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  প্রতিটি জেলায় একটি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের।

প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ স্থাপন করারও ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি ৮ম শ্রেণীতে  ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে।  যাতে কেউ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও জীবন জীবিকার থেমে না যায়।

প্রবাসীদের অবদানের কথা উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন সমসময় আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। জাতির জনক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন সকল আন্দোলনেই প্রবাসীরা এগিয়ে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে আরো বলেন, ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে ছেলের অসুস্থ স্ত্রী ও অন্ত:স্বত্তা মেয়েকে দেখতে আমি বিদেশ গিয়েছিলাম। তখন আমার দেশে ফেরা আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এসময় প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিরাই আমার দেশে ফিরার ব্যাপারে ঐক্যমত্য সৃষ্টি করেন। তাদের জোরালো পদক্ষেপেই আমি দেশে ফিরতে পেরেছি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো বলেন, আমার দেশে ফেরার সময় সাথে ১০০ জন প্রবাসী বাঙালি আমার সাথে ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সিলেটী। তাদের অবদানের কথা আমি ভুলিনি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতির চাকা বেগবান রয়েছে। এজন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ।

অর্থমন্ত্রীর কথা উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি শিক্ষার জন্য আন্তরিক। শিক্ষাখাতে তিনি অর্থছাড়ে কার্পণ্য করেন না।’

দেশের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সাধারণের ভূমিকা রয়েছে উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম বাংলায় বিত্তবানদের সাথে সাথে অনেক সাধারণ মানুষও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন।’

দেশের শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও বক্তব্যে উলে­খ করেন প্রধানমন্ত্রী।