logo

পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা: তালেবানের দুই কথা

পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা: তালেবানের দুই কথা

ইসলামাবাদ, ২১ জানুয়ারি- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার নিয়ে পরষ্পরবিরোধী কথা বলেছে তালেবান।

তেহরিক ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি)কমান্ডার উমর মনসুর হামলার দায় স্বীকার করলেও দলটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র মুহাম্মদ খোরাসানি এ হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি।ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

বুধবার সকালে পেশোয়ার থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে চরসাদ্দা শহরের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন প্রাথমিকভাবে ২১ জনের নিহত হওয়ার খবর দেয়। অন্যদিকে, কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স ও  বিবিসি ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঊর্ধ্বতন কমান্ডার উমর মনসুর হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, তালেবানের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের বদলা নিতে এ হামলা চালানো হয়েছে।

রয়টার্সকে টেলিফোনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকায় এটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ হামলা চালায় বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি ক্যাডেট কলেজ এবং সামরিক বাহিনীর স্কুলগুলোতেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেন মনসুর।

বুধবার মনসুরের এ বক্তব্যের পরপরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক ইমেইলে তালেবান ‍মুখপাত্র খোরাসানি হামলার দায় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ হামলার সঙ্গে টিটিপি এবং এর আমির মৌলানা ফাজাউল্লাহ কেউই জড়িত নয় ।

হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘অনৈসলামিক’ বলেও বর্ণনা করেন। খোরাসানি বলেন, “বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে পড়া তরুণদেরকে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বলেই বিবেচনা করি। তারা মুসলিম এবং তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”

“যারা এ হামলায় তালেবানের নাম ব্যবহার করেছে তাদেরকে শরিয়া আদালতে বিচার করা হবে।”

দ্য ডন লিখেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে ঢুকে জঙ্গিরা যে কায়দায় ১৩২ শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জনকে হত্যা করেছিল, বাচা খানের হামলাও হয়েছে একই কায়দায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী অধ্যাপক ড. শাকুর বিবিসি’কে বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ফিরে আসেন।

যখন হামলা হয় তখনও সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়নি বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া, আবৃত্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও প্রায় কয়েকশ মানুষ বুধবার সেখানে জড় হয়েছিল।

এ হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা  পূরণে আমরা অবিচল এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”