logo

সরকারের ভেতরে সমস্যা শুরু হয়ে গেছে: ফখরুল

সরকারের ভেতরে সমস্যা শুরু হয়ে গেছে: ফখরুল

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি- বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কোন্দলের পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির এক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের ভেতরে ‘সমস্যা’ শুরু হয়ে গেছে।

প্রধান বিচারপতির বাণী দেওয়া এবং সিলেটে ছাত্রলীগের কোন্দলে একজন খুন হওয়ার পরদিন বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তিতে এক বাণীতে বলেন, অবসরের পর বিচারকদের রায় লেখা সংবিধান পরিপন্থি।

তার ওই বক্তব্য ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় ‘অবৈধ’ ছিল।   

খন্দকার মাহবুবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ফখরুল বলেন, “আজ সরকারের নিজের মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে সব সমস্যা।

“প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই সরকারের বৈধতা নেই, এই পার্লামেন্টের বৈধতা নেই। যে রায়ের বদৌলতে, যে রায়ের ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল, সেই রায় সংবিধানসম্মত নয়।”

তত্ত্বাবধায় সরকার পদ্ধতি সংযোজন করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধন আদালত অবৈধ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী এনে নির্বাচনকালীন ওই সরকার পদ্ধতি বাতিল করে।

‘শর্ট অর্ডার’ দেওয়ার বছর খানেক পর আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার পর ওই রায় লিখেছিলেন।

এভাবে রায় লেখার চর্চা বহুকালের। বিচারপতি সিনহা তা থেকে বেরিয়ে আসতে সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার বাণীতে।

তত্ত্বাধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে বিএনপি। তা ফিরে না আসায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি।  

ফখরুল বলেন, “আজকে দেখুন, সরকার যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে, এজন্য আমাদের কিছু করতে হচ্ছে না। তাদের নিজেদের মধ্যে প্রচুর কোন্দল শুরু হয়ে গেছে।”

সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা বলেন,পদ্মা সেতু, মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যয় বাড়ানোর উদ্দেশ্য ‘লুটপাট’ করা।

বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা-কর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

“সারাদেশে আন্দোলন হলেও আমরা ঢাকায় সফল হতে পারছি না। সব বিভেদ ও দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে মহানগরের সকলকে এক হতে হবে।”

মামলা প্রত্যাহার করে নেতাদের মুক্তি দেওয়ার দাবিতে এই সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, মুনির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, হাফেজ আবদুল মালেক,আজমল হোসেন পাইলট বক্তব্য রাখেন।