logo

‘অভিন্ন লক্ষ্য’ নিয়ে কাজ করবেন নতুন ব্রিটিশ হাই কমিশনার

‘অভিন্ন লক্ষ্য’ নিয়ে কাজ করবেন নতুন ব্রিটিশ হাই কমিশনার

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি- বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ‘অভিন্ন লক্ষ্য’ নিয়ে সরকার ও জনগণের সঙ্গে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নতুন ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র দেওয়ার পরদিন বুধবার ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া ব্লেক এবারই প্রথম হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে পাকিস্তানে ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী হাই কমিশনারও তিনি। এমন এক সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন যখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজির গ্রহণের মাধ্যমে নয়া বিশ্ব উন্নয়ন সূচি এসেছে।

ব্লেক বলেন, বাংলাদেশের বন্ধু এবং অন্যতম দাতা হিসেবে ‘আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের ওপর খুব গুরুত্ব দিই’।

“পরবর্তী প্রজন্মের লক্ষ্যসমূহ, যার মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসন, লৈঙ্গিক সমতা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার মতো বিষয় রয়েছে সেগুলোর প্রতি আমাদের দুই দেশেরই অঙ্গীকার রয়েছে।”

নতুন বিশ্ব উন্নয়ন লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য।

ব্লেক বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আইনের শাসন বজায় রেখে বিকাশমান সুশীল সমাজকে নিয়ে গণতন্ত্রই হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের সর্বোত্তম পথ।

“মধ্য আয়ের দেশের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং কেউ যাতে উন্নয়নের বাইরে না থাকে তা নিশ্চিতে আমরা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”

“ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিস্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছি।”

যুক্তরাজ্যের মুখ্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার কথা জানান ব্লেক।

“এদেশের মানুষ ব্রিটিশ সমাজে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং আমরা বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক যাত্রা ও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারি।”

ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছে ব্রিটেনে।  প্রায় পাঁচ লাখ ব্রিটিশ বাংলাদেশি দেশটির রাজনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারও যুক্তরাজ্য।