logo

নাগরিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করল হাইকোর্ট

নাগরিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করল হাইকোর্ট

কলকাতা, ২১ জানুয়ারি- নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এক মামলার শুনানিতে আদালতের মন্তব্য, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের পদস্থ কর্তারা উদাসীন। এর থেকেই শহরবাসীর নিরাপত্তার হাল বোঝা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতি।

কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের এই মন্তব্য? মাদক পাচারের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জনৈক বিজয় মাহাতোকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ থেকে মুক্তি চেয়ে বিজয় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। দেখা যায়, তদন্তকারী অফিসার সাধন মণ্ডল অধিকাংশ অভিযুক্তকে ধরতে সক্রিয়ই হননি। এমনকী, কেস ডায়েরিতে ধৃতদের এবং সাক্ষীদের যে জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছেন তারও কোনও তারিখ নেই।

তদন্তকারী ওই অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এদিন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) দেবাশিস বড়াল এবং ডিসি ডিডি (স্পেশাল) দেবস্মিতা দাসকে তলব করে তিরস্কার করেন বিচারপতি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়। ওই অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপেরও নির্দেশ দেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি। পরে রাতের দিকে ওই তদন্তকারী অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়।

এদিন বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, ‘‘একজন খুনি একজন বা দু’জনকে খুন করে। কিন্তু একজন মাদক পাচারকারী এক হাজার মানুষকে শেষ করে দেয়।’’ মাদক পাচারের মতো ঘটনার তদন্তে গাফিলতির পরেও কেনও তদন্তকারী অফিসারকে সাসপেন্ড হচ্ছে না, এদিন সেই প্রশ্নই তোলেন বিচারপতি। এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশকর্তাদের রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিত্ কর পুরকায়স্থকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে সতর্ক করে দেন বিচারপতি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়।

বিচারপতি এদিন প্রশ্ন তোলেন, ‘‘একজন অভিযুক্ত তদন্তকারী অফিসারকে কেন আপনারা আড়াল করছেন? তাঁকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি?’’ দেবস্মিতা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তা শুনে বিচারপতি ফের মন্তব্য করেন, ‘‘এই তদন্ত তো অবসর নেওয়া পর্যন্ত চলবে। আপনারা সাসপেন্ড করতে পারবেন না বলেই পুলিশ কমিশনারকে ডাকা হয়েছিল। আপনাদের উদাসীনতা দেখেই শহরের নাগরিকদের হাল বুঝতে পারছি।’’ এরপর তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করা হয় ওই অফিসারকে। প্রসঙ্গত, এদিনের শুনানিতে পুলিশ কমিশনারকেই প্রথমে তলব করেছিল আদালত। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে থাকায় ওই দুই আধিকারিক আদালতে যান।

পুলিশকর্তাদের তলব করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিচারপতিদের উদ্বেগ প্রকাশ এই প্রথম নয়। সম্প্রতি নাকতলার একটি জমি থেকে উচ্ছেদের মামলায় এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ কমিশনারকে ভর্ত্‌সনা করেছিলেন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘পুলিশ কমিশনারের সামনে একজন গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন। কমিশনার কীভাবে তা দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন? এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার হাল কেমন।’’ এর আগে রঙ্গচিত্র-কাণ্ড নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রের দায়ের করা মামলায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘রাতের কলকাতা শহর কি দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল?’’