logo

মোদী লিখলেন, কেমন আছেন? দিদিভাই লিখলেন, কেম ছো?

মোদী লিখলেন, কেমন আছেন? দিদিভাই লিখলেন, কেম ছো?

কলকাতা, ২১ জানুয়ারি- শুভেচ্ছা বিনিময়ে আন্তরিকতার ছোঁয়া। কিন্তু প্রেরক ও প্রাপক যেহেতু পরস্পরের প্রতিপক্ষই, তাই রাজনীতির ছোঁয়া লাগল সেই সৌজন্য বিনিময়েও। মমতার গুজরাতিতে পাঠানো সেই শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বিশেষ স্পর্শ অনুভব করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গুজরাতিতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সৌজন্যে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী। নববর্ষের সেই শুভেচ্ছা সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়ে বুধবার টুইট করেছেন মোদী। তার ঠিক পরই পাল্টা টুইটে তাঁর শুভেচ্ছার প্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানিয়েছেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাংলায় শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার গুজরাতিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে কার্যত প্রধানমন্ত্রীর সেই সৌজন্যই ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা সম্পর্কে এদিন টুইট করেন মোদী। সেখানেই তিনি শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। মমতার গুজরাতিতে পাঠানো সেই শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বিশেষ স্পর্শ অনুভব করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মমতাদিদি বলেও উল্লেখ করেছেন মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসার পরই টুইট করেছেন মমতা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তাঁকেও একবার বাংলায় শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন মোদী। মমতার এই টুইটে স্পষ্ট, প্রধানমন্ত্রীর সেই সৌজন্যের কথা মাথায় রেখেই এই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই জোড়া টুইটে সামনে এসেছে পরস্পরের রাজনৈতিক সম্পর্ক।

কেন্দ্র ও রাজ্যের দেনা-পাওনা নিয়ে মোদী ও মমতার সম্পর্ক বরাবরই টানটান। ক্ষমতায় আসার পরপর দিল্লির থেকে দীর্ঘদিন মুখ ফিরিয়ে থেকেছেন মমতা। রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী প্রায় নিয়ম করে বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারকে। দল হোক বা সরকার, যে কোনও কর্মসূচিতেই রাজ্যের প্রতি আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন কেন্দ্রকে। তার ফাঁকেই এই সৌজন্য বিনিময়। কিন্তু রাজনীতির ফাঁসে জড়াল সেই সৌজন্যও। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর গুজরাতি শুভেচ্ছাবার্তার কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার মমতার এদিনের টুইটও রি-টুইট করেছেন তিনি। মোদীর টুইটে পরস্পরের সম্পর্ক নিয়ে যাতে ‘ভুল’ বার্তা না যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন রাজ্যের শাসক শিবিরের প্রধান।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের মুখে প্রায় সব মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে অভিযোগ তোলা শুরু করে দিয়েছেন। রাজ্যের শাসকদলের দাবি, প্রাপ্য দেওয়া তো দূরের কথা, বামফ্রন্ট আমলের ঋণের জন্য তৃণমূল সরকারকে যে সুদ দিতে হচ্ছে, তা ঘুরিয়ে অসহযোগিতাই। ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদলকে সে কথা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হচ্ছে। এই অবস্থায় দিল্লি থেকে শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে এই তত্পরতা তৃণমূল ভাল চোখে দেখছে না।

সামনেই বিধানসভা ভোট। রাজ্য রাজনীতির এই সময়ে তাই ঝুঁকি নিতে চায়নি নবান্ন। মোদীকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা যে নেহাতই সৌজন্য বিনিময়, তা জানাতে দেরি করেননি।