logo

জঙ্গি দলাদলিতে বিফল ‘ভাল-মন্দ’

জঙ্গি দলাদলিতে বিফল ‘ভাল-মন্দ’

ইসলামাবাদ, ২১ জানুয়ারি- হুমকি কিংবা টোপ— শান্তি আলোচনায় তালিবানকে টেনে আনতে এটুকুই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি। অান্তর্দেশীয় বৈঠকে প্রকাশ্যেই পাকিস্তান স্বীকার করে নিয়েছিল, তালিবানের উপর তাদের ‘দখলে’র কথা! সেই দাপুটে সুরের তাল কাটল পেশোয়ারের বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিবানি তাণ্ডবে! এক বছর আগে  পেশোয়ারের সেনা স্কুলে তালিবানের হামলার পর একের পর এক জঙ্গিকে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে জঙ্গিনিধনে কড়া বার্তা দিয়েছিল নওয়াজ শরিফের সরকার। আজকের হামলা ফের দেখিয়ে দিল, আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া তো দূর অস্ত্‌, দেশের পরিস্থিতিই এখনও পাক প্রশাসনের হাতের বাইরে!

কয়েক বছর ধরে তালিবানের সঙ্গে কথা চালাতে চাইছে আফগানিস্তান। দীর্ঘ দিন পাকিস্তান সেই প্রক্রিয়ায় সামিল হয়নি। তারা নিজেদের দেশে ‘ভাল’ আর ‘মন্দ’ তালিবান চিহ্নিত করে নিজেদের সীমানায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছিল। পথের কাঁটা ছিল তেহরিক-ই-তালিবান। পেশোয়ারের সেনা স্কুলে হামলা তারাই চালায়। এর মধ্যে গত জুনে তালিবান প্রধান মোল্লা ওমরের মৃত্যু সামনে আসতে ধুন্ধুমার বাধে তালিবানের অন্দরমহলে। নেতা হন মোল্লা আখতার মনসুর। কিন্তু অন্তর্বিরোধ থামেনি। ক্রমশ তৈরি হতে থাকে নানা গোষ্ঠী, মূল সংগঠনের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক অনেকটাই ক্ষীণ। এ দিনের হামলা নিয়েও পরস্পর-বিরোধী দাবি শোনা গিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবানের পক্ষ থেকে। কেউ বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। আবার কেউ দাবি করেছে, এটা তাদেরই কীর্তি।

তবে সামগ্রিক ভাবে একটা বিষয় স্পষ্ট। তালিবানের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। কিন্তু তার জন্য নাশকতা থেমে নেই। আর ‘ভাল’ তালিবানকে কব্জায় এনে শান্তি ফেরানোর পাক নীতিও দৃশ্যতই কাজ দিচ্ছে না। মোল্লা আখতার মনসুর কিন্তু আইএসআই-এর ‘গোল্ডেন বয়’ বলেই পরিচিত! বস্তুত মনসুর শীর্ষ পদে বসতেই তালিবান-নিয়ন্ত্রণে সুর চড়াতে শুরু করে পাকিস্তান। অন্য দিকে ইসলামিক স্টেট যে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে, মনসুরও তা জানেন। ফলে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনিও শান্তি আলোচনার় পক্ষে।

ফলে গত সপ্তাহে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যখন ইসলামাবাদে বৈঠক বসে, তখন আত্মবিশ্বাসী ছিল পাকিস্তান। বৈঠকে যোগ দেয় চিন, আফগানিস্তান এবং আমেরিকা। কিন্তু শেষমেশ বৈঠক বয়কট করে খোদ তালিবানই। কেন? ফের সেই অন্তর্বিরোধ। মনসুরের প্রতিদ্বন্দ্বী তায়েব আগা ঘোষণা করেন, পাকপন্থী কোনও নেতার অঙ্গুলিহেলনে চলবে না তালিবান। তাঁর দাবি, কথা হোক দেশের বাইরে। তাঁর মাধ্যমে।

সম্প্রতি ইউনিয়ন অব স্টেট বক্তৃতায় জঙ্গি-স্বর্গরাজ্য প্রসঙ্গে ওবামা টানেন পাকিস্তানের নাম। এ বারও সেই ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করেই তোলপাড় তালিবানের রাজনীতি।