logo

'বাংলাদেশ এক স্বর্ণোজ্জ্বল সময় পার করছে'

'বাংলাদেশ এক স্বর্ণোজ্জ্বল সময় পার করছে'

ঢাকা, ২১ জানূয়ারি- শুরু হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছেন, দেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন এক স্বর্ণোজ্জ্বল সময় পার করছে।

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছেন, গত ৫ বছরে দেশে ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ অর্জন দেশের দরিদ্রতা হ্রাসে সাহায্য করেছে। দরিদ্রতা হ্রাসের জন্য 'একটি বাড়ী একটি খামার' প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ঢাকা শহরকে অাধুনিকায়ন ও যানজট মুক্ত করার জন্য মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কর্ণফূলী নদীতে টানেল নির্মাণের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশে প্রথমবারের মতো নদীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য টানেল নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার লম্বা এ টানেল নির্মাণে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

পায়রায় দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে উদ্বোধনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

 দেশের আরেকটি বিভাগ সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক সেবা বিকেন্দ্রীকেরণের জন্য ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সফলতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পলিও মুক্ত সনদ পেয়েছে।

পর্যটন শিল্পের প্রসারের তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ‘পর্যটক পুলিশ’ গঠন করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ নিয়ে কাজের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। সেই সাথে তিনি বলেছেন, এ পুরস্কার অর্জনের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও বিদেশে এই বাহিনী দেশের সম্মান উজ্জল করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বাধিক সৈন্য জাতিসংঘে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের এ অর্জন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতে এ সংখ্যা আরো বাড়ানোর চিন্তা চলছে।

শিক্ষার উল্লেযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সরকার ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

গত বছর ক্রিকেটে অভাবনীয় সফলতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ক্রিকেটে সফলতার ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের মান উজ্জল হয়েছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের জন্য সরকারীদল ও বিরোদী দলের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। 

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের শুরুতে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদ হবে প্রাণবন্ত। সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনার মধ্যে দিয়ে সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ।

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদসহ সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন।

২০ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ অধিবেশন চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।