logo

তামিমকে খেলাতে বলেছেন নাজমুল

তারেক মাহমুদ


তামিমকে খেলাতে বলেছেন নাজমুল

খুলনা, ২১ জানুয়ারি- পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকে এগিয়ে গেলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। অনেকক্ষণ কথা বললেন। দুজনের শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট অসন্তুষ্টি। একটু পর যোগ দিলেন তামিম ইকবালও। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে আলোচনাটা অবশ্য বিসিবি সভাপতি সেরে নিয়েছিলেন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই।

মাশরাফির সঙ্গে সভাপতির কথোপকথনের বিষয়বস্তু অনুমান করার কষ্ট আর করতে হলো না। চার নতুনের একাদশ দেখে বিস্মিত নাজমুল হাসান ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্তে তাঁর আপত্তির কথা সরাসরিই জানিয়ে দিলেন এই প্রতিবেদককে। তামিম ইকবালকে দুই ম্যাচ বসিয়ে রাখারও পক্ষে নন তিনি। হাথুরুসিংহেকে কালই ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন, আগামীকালের শেষ টি-টোয়েন্টিতে তামিমকে দলে রাখার। বোলিংয়ে অভিজ্ঞতা বাড়াতে একাদশে রাখতে বলেছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানিকেও।

‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে তা জানতাম। তবে আজ (গতকাল) যে এত বেশি হবে, এটা জানতাম না। আমার মনে হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটু বেশি হওয়াতেই আমাদের বোলিংটা দুর্বল হয়ে গেছে,’ কাল ম্যাচ শেষে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে বলছিলেন বিসিবি সভাপতি। ২০ ওভারের ক্রিকেটে যেকোনো দলের বিপক্ষেই ১৮৭ রান তাড়া করে জেতা সেরা একাদশ ছাড়া সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তিনি, ‘আমাদের মুশফিক ছিল না, তামিমও খেলেনি। সে জন্য ব্যাটিংও দুর্বল হয়ে পড়েছে। যারা ছিল, তাদের পক্ষে ওভারপ্রতি ৬, ৭, ৮ পর্যন্ত হয়তো রান করা সম্ভব, বাকিটা সম্ভব নয়।’

২-০ তে এগিয়ে থেকেও সিরিজ জয়ের জন্য এখন কালকের শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচে পূর্ণ শক্তির একাদশই চান বিসিবি সভাপতি, ‘খেলা শেষে কোচ, অধিনায়ক ও ম্যানেজারকে পরের ম্যাচে এত বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না করেছি। দলে আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দরকার। তামিমকে অবশ্যই দলে থাকতে হবে। আরাফাত সানি একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। এত পেসারকে চেষ্টা না করিয়ে আমরা তাকেও খেলাতে পারি। তামিম আর আরাফাত সানিকে পরের ম্যাচে নিতে বলেছি।’ আর পেসার যদি কাউকে নিতেই হয়, তাসকিন আহমেদকেও দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ওপেনিংয়ে তামিম ফিরলেই ইমরুলকে বাদ পড়তে হবে, এমন সমীকরণেও বিশ্বাসী নন নাজমুল হাসান, ‘প্রয়োজনে ইমরুলকেও দলে রাখা যায়। মুশফিক না থাকায় অপশন তো আছেই...।’

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে আলাপে পাঁচ পরিবর্তন আর চারজন নতুন খেলোয়াড় খেলানোর ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন বোর্ড সভাপতি। নাজমুল হাসানের কথার সূত্র ধরে কোচের সেই ব্যাখ্যায় পাওয়া যাচ্ছে ভুল স্বীকারের বিনয়, কোচ নাকি কারও কারও সম্পর্কে অনেক প্রশংসা শুনেছেন। এত বেশি শুনেছেন যে তিনি চেয়েছেন তাঁদের সুযোগ দিয়ে দেখতে। এই ম্যাচ ছাড়া আর সেই সুযোগ ছিল না। সে জন্যই দেখে নিয়েছেন। হাথুরুসিংহের ব্যাখ্যায় নাজমুল হাসানকে তেমন একটা সন্তুষ্ট বলে অবশ্য মনে হলো না। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে নতুন কাউকে খোঁজার কোনো যুক্তিই দেখেন না সভাপতি, ‘মুস্তাফিজ ও মাশরাফি তো খেলবেই। এখানে আমরা হাত দিতে পারব না। বড়জোর আরেকজন পেসার খেলানো হবে। সে জন্য তাসিকন আছে, রুবেল আছে, রনিকে দেখছি। আর কত? এত বেশি দেখার দরকার নেই। হাতে থাকলেও আমার তো সুযোগ নেই নতুন কাউকে দলে নেওয়ার। কোচকে সেটাই বলেছি।’

তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগে নাকি কোচ বলেছিলেন, এ ম্যাচে হারলেও সমস্যা নেই। সঠিক সমন্বয় দাঁড় করানোর পরীক্ষাটাই তাঁর কাছে বড়। দেখাই যাক, সভাপতির কথায় মত বদলান কি না চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। নাকি সিরিজ জয়ের চেয়ে শেষ ম্যাচেও তাঁর কাছে প্রাধান্য পায় আরেকটু দেখে নেওয়ার ইচ্ছা।