logo

বাংলাদেশি মিডিয়া নিয়ে প্রিয়তির খোলামেলা কথা

Shamima Seema


বাংলাদেশি মিডিয়া নিয়ে প্রিয়তির খোলামেলা কথা

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি- ‘মিজ আয়ারল্যান্ড’ খ্যাত মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশী মিডিয়া নিয়ে। বিশেষ করে নতুন যারা মিডিয়াতে কাজ করার জন্য আসছেন তাঁদের নিয়ে একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে। চলুন পাঠক প্রিয়তি কি বললেন তাঁর লেখায় একটু মনযোগ দিয়ে পড়ে আসি।

‘একটা সচেতনতা মুলক কাজে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি। যদিও আমার পক্ষে এই মুহূর্তে এতটুকু করা ছাড়া তেমন উপায় নেই। আমাদের দেশে মেয়েরা মোহের বশে কোন মডেল, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, খেলোয়াড় সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পরছে। এমনকি শারীরিকভাবে অনেক বেশি। রঙিনভাবে পৃথিবী দেখে ওরা বাস্তবতা বুঝতে পারেনা। আকাশ আর মাটির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আমাদের সেই দূরত্ব কমানো উচিত। ওরা অনেকভাবে না বুঝে ভুল করে ফেলছে। অনেকে আমাকে ভালো করে না চিনলেও আমাকে বিশ্বাস করে আমাকে ইনবক্স করে আমার সাথে শেয়ার করেছে তাঁদের গল্প।

অনেকে না বুঝে ভুল করে প্রেগন্যান্ট হয়ে যাচ্ছে বড় বড় সেলিব্রেটিদের সাথে, তারপর এবরশনের পথে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ জানাজানি হলে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেবে। এবং এটাই হয় বাস্তবে। যাই হোক, আমি শুধুমাত্র মেয়েদেরকে নয়, সবাইকেই পজিটিভভাবে একটা ম্যাসেজ দিতে চাই। আমি একটা লেখা লিখেছি, যদি সম্ভব হয় মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। আর যদি না পারেন, তাহলে কোন ক্ষোভ বা দুঃখ থাকবে না। আমি চেষ্টা করব ফেসবুকের মাধ্যমে শেয়ার করে মানুষদের সচেতন করতে। আমার এখানে সময় রাত ৩টার কাছাকাছি। আমি বসে বসে আপানাদের কাছে লিখছি কারন আমি আসলেই তাঁদের জন্য ভাবি। ধন্যবাদ সবাইকে পাশে থাকার জন্য।’

‘কে আমি? একজন মডেল, অভিনেত্রী? অথবা তারকা, লেখক, নির্মাতা কিংবা বড় খেলোয়ার? অনেকেই আছে যারা আমাকে চেনে না, কিন্তু তারকাখ্যাতির জন্য অনেকে আমার ব্যাপারে উৎসাহী। আমার খ্যাতিকে বাদ দিলে আমার মধ্যে পরিচিতির কি অবশিষ্ট থাকে? মানুষ হিসেবে আমার যোগ্যতা এবং ইতিবাচক দিক আসলে কি? আমার পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমি কি শিখতে পেরেছি? আমি কি আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা কোন ভাল কাজে ব্যবহার করেছি? আমি নিজেকে কতটুকু উন্নত করতে পেরেছি? আমি অন্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি? মানুষের জন্য আমি কতটুকু সহায় এবং সৎ? আমার জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি আমি সবাইকে বোঝাতে পেরেছি? আমি নিজে এই সুসভ্য নগরের মানুষদের সঙ্গে কতটুকু মানিয়ে নিতে পেরেছি? আসলে তারকারা তাঁদের কাজ এবং পেশা দিয়েই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই ভাল মানুষ হন, সেটি আপনার কাজের মাধ্যমেই ফুটে উঠবে। অন্যদের প্রতি মৌলিক যে গুণাবলী যেমন- সততা, সহায়তা, সত্যতা, স্বচ্ছ্তার মত মানবিক ব্যাপারগুলোও মানুষের মাঝে থাকা জরুরি। যখন আপনার ভেতর এই গুণাগুণগুলো থাকবে, তখনই আপনি আপনার খ্যাতি উপভোগ করুন। কিন্তু তারকা খ্যাতি পাওয়ার জন্য নিজের মানবিক বিষয়গুলোর সঙ্গে সমঝোতা করা ঠিক নয়। যারা তারকাদের কাজে মুগ্ধ, তাদেরও এটি মনে রাখা উচিত যে, তাদের মেধা ও খ্যাতি পাওয়ার আগে তারাও সাধারণ মানুষের মতই। অন্যদের মত তাদেরও সব মানবিক দিক আছে, পাশাপাশি অন্যান্য দোষগুণও আছে। ভুল এবং দুর্বলতা মানুষের অংশ।

তারকাদের ভুল বেশি ধরা পরে কারণ তাদের জীবনের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। এর একটি ভাল দিকও আছে। যেমন, তারকারাও নিজেদের সম্পর্কে সচেতন থাকে যাতে ভক্তদের সামনে তাদের ভুল না আসে। খারাপ দিক হচ্ছে, অনেক সময় ভক্তদের জন্য তারকারা নিজেদের আবেগকে বিসর্জন দেয়। সাধারন মানুষকেও বুঝতে হবে, জগতে কেউই নির্ভুল নয়। মেধাকে যেমন শ্রদ্ধা করা উচিত, তেমনি তারকাদের স্বাভাবিক মানবিক ভুল ত্রুটিও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা উচিত।’