logo

ISIS-এর টক্কর দিতে তৈরি হচ্ছে ১৫,০০০ ধর্মসেনা

ISIS-এর টক্কর দিতে তৈরি হচ্ছে ১৫,০০০ ধর্মসেনা

নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি- ২০২০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দখল নিতে পারে আইসিস। বহিরাগত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের ঠেকাতে তাই প্রস্তুত হচ্ছে হিন্দু স্বাভিমান গোষ্ঠী। কড়া প্রশিক্ষণে তৈরি হচ্ছে মাতৃভূমির জন্য বলিপ্রদত্ত ধর্মসেনা।

গত কয়েক মাসে রাজধানী দিল্লির শহরতলি থেকে উত্তরাখণ্ডের সীমান্ত বরাবর অঞ্চলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে হিন্দু স্বাভিমান গোষ্ঠী। বর্তমানে মোট ১৫০০ 'যোদ্ধা' এই গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি নেতাদের। এক সপ্তাহ ধরে গোষ্ঠীর ধর্মসেনা বাহিনীর চারটি শিবির ঘুরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

জানা গিয়েছে, দুর্ধর্ষ ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তৈরি হচ্ছে ধর্মসেনা। সারা দেশে ৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির খোলা হয়েছে। শুধুমাত্র মীরাট শহর ও মুজাফ্ফরনগর জেলাতেই রয়েছে ৩টি শিবির। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও বছর আটেকের শিশুও। যোদ্ধাদের প্রত্যেককে তরোয়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর তালিম দেওয়া হচ্ছে। গাজিয়াবাদের দাসনার এক মন্দিরে এই গোষ্ঠীর প্রধান দপ্তর। নেতাদের দাবি, প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে সদস্য সংখ্যা।

সোমবার হিন্দু স্বাভিমানের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা ভিএইচপি-র দুর্গা বাহিনীর সদস্য চেতনা শর্মা টিওআই-কে জানিয়েছেন, 'আমাদের খুব সহজ লক্ষ্য- কমবয়সীদের ধর। আমাদের সদস্যদের বয়স ৮-৩০ বছর। তবে শিশুদের প্রথমেই অস্ত্র ধরানো হয় না। গোড়ার ৬ মাসে তাদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করা হয়। তাদের গীতার শ্লোক পড়ানো হয়। এখানে শিশুরা অকুতোভয়। হিন্দুদের মৃত্যু সম্পর্কে ভীতি থাকা উচিত নয় কারণ আমরা পুনর্জন্মে বিশ্বাসী।'

ইদানীং ভারতে একাধিক সন্ত্রাস হানার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়েছে আইসিস। এই পরিস্থিতিতে নবীন প্রজন্মের মনে জায়গা করে নিচ্ছে ভিএইচপি, হিন্দু স্বাভিমানের মতো হিন্দুবাদী গোষ্ঠীগুলি। মোদীনগরের রোরি গ্রামে ধর্মসেনার এমনই এক গোষ্ঠীতে সিশুদের তালিম দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জওয়ান পরমিন্দর আর্য। তিনি জানিয়েছেন, 'আমাদের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি খুব সহজ। দেশে ঘটে চলা একের পর এক নাশকতার ঘটনা সম্পর্কে ছোটদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।' গত ২ জানুয়ারি পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হানা নিয়ে এমনই আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মজার কথা, যে পুলিশকর্তার নাকের ডগায় এমন একাধিক শিবির চলেছে, মীরাটের সেই আইজি অলোক শর্মা স্বীকার করেছেন, 'এমন কিছু হচ্ছে বলে আমাদের কাছে কোনও খবর নেই। ব্যাপারটি সম্পর্কে অবশ্যই খোঁজ নেব।'

গাজিয়াবাদের বামহেটা গ্রামে ধর্মসেনার শিবির পরিচালক তথা প্রাক্তন কুস্তিগির অনিল যাদবের সাফ কথা, 'এই সমস্ত শিবির আমরা কুস্তির আখড়ার আদলে গড়ে তুলেছে এবং তা কখনওই বেআইনি নয়। তবে প্রয়োজনের খাতিরে কিছু কিছু গোপন শিবিরও চালানো হয়। আমরা চাই না পুলিশ এগুলি বন্ধ করে দিক। শিবিরে অস্ত্র প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। যদি কোনও শিশু চায়, তাহলে তাকেও এই তালিম দেওয়া হয়। গত ২ বছরে প্রায় ১৫০০০ শিশুকে তালিম দেওয়া হয়েছে। ভেবে দেখুন, তাহলে আগামী ৫ বছরে কী হবে।'

দাসানের মন্দিরেই ঘাঁটি গেড়েছেন স্বামী নরসিংহনন্দ সরস্বতী ওরফে দীপক ত্যাগী। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি সমাজপাদী পার্টির সদস্য ছিলেন, মুলায়ম সিং যাদবকে গুরু মানতেন। মন্দিরের বাইরের ফলকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে: এই মন্দির হিন্দুদের পবিত্র ধর্মস্থান। এখানে মুসলমানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রধান পুরোহিত বাবা নরসিংহনন্দ সরস্বতীর অনুমতি অনুসারে। বছর ২০ আগে তাঁর সম্প্রদায়ের এক মহিলা শ্লীলতাহানির জেরে আত্মহত্যা করার পর তিনি গোষ্ঠীবদল করেন। সরস্বতীর বিশ্বাস, উত্তরপ্রদেশের দেওবাঁদের দারুল উলুম-ই এদেশে আইসিস-এর মূল সূত্র। তাঁর মতে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই এই হিন্দু গুরুর নিদান, 'আমার মতে, আইসিস-এর মোকাবিলা করতে গেলে হিন্দুদেরও একই রকম চরমপন্থীর প্রয়োজন। ইসলামিক স্টেট-এর একমাত্র জবাব হিন্দু রাজ্য। আমরা আগুনের জবাব আগুন দিয়েই দিতে চাই। এই ভাবেই আইসিস-ও বড় হয়েছে।'

হিন্দু স্বাভিমান-এর অভিযোগের উত্তরে দেওবাঁদের দারুল উলুম-এর উপাচার্য মৌলানা আবুল কাশিম নোমানি জানিয়েছেন, 'সারাদিন আমাদের দরজা খোলা রয়েছে। যাঁর ইচ্ছে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারেন। প্রতিটি পাঠ্যবিষয় ও পাঠ্যশৃঙ্খলা একটি খোলা বই ছাড়া কিছু নয়। আইবি ও পুলিশ কর্তারা, সরকারি আধিকারিকরা, গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এসেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ বছরের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। কখনও তা সমালোচনার মুখে পড়েনি। যে কোনও অনুসন্ধান অভিযানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আমাদের কিছু লুকোনোর নেই। আইসিস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আমরা সংবাদমাধ্যম সূত্রেই পেয়ে থাকি।'