logo

ওজন কমিয়ে রেকর্ড গড়লেন ৪২ বছর বয়সী মর্গান

আফসানা সুমী


ওজন কমিয়ে রেকর্ড গড়লেন ৪২ বছর বয়সী মর্গান

আবুজা, ২০ জানুয়ারি- ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন নারীপুরুষ সবাই । চারপাশের নানান রঙ এর বিজ্ঞাপন আমাদের রোজ মনে করিয়ে দেয় আমাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে। ৩০ বছর বয়স হলে এক সমস্যা, ৩৫ পার হলে আরেক সমস্যা। তারপর পরিবারে, বন্ধুদের আড্ডায়, অফিসে সবখানে বিয়ে হওয়া, মা হও্য়াকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এরপর আর জীবন নেই, সব শেষ।

সবশেষের এই প্রচারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন সম্প্রতি নাইজেরিয়ান এক নারী। তার নাম ওমাটসলা মর্গান। ১টি নয়, ২টি নয়, ৪ টি সন্তানের জননী। ২০০৮ সালে মূল লড়াইয়ে নামার আগে তার ওজন ছিল ১২১ কেজি। বয়স ৪২ বছর। ভাবছেন, কি এমন করেছেন তিনি! নিজের বয়স, ওজন সবকিছুর সাথে লড়াই করেছেন। নিজেকে তৈরি করেছেন ম্যারাথন দৌড়ের জন্য এবং সকল মহাদেশের নারী দৌড়বিদদের মধ্যে দ্রুততম হওয়ার রেকর্ড করে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন গিনেস বুকে।

মর্গান Fastest time to run a half marathon on each continent (female) এ ৭ টি রেসে ১০ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডে  এবং Fastest time to complete a half marathon on each continent and the north pole (female) এ ৬২ দিন ১২ ঘন্টা ৫৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে রেকর্ড গড়েন।

অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কিভাবে সম্ভব? সম্ভব ইচ্ছাশক্তি এবং হাল না ছাড়ার মানসিকতা থেকে। এটা অবশ্যই একটি সংগ্রাম, নিজের সাথে প্রতিনিয়ত। আসুন জেনে নিই মর্গানের জীবনের সংগ্রামের কথা। কি করতেন তিনি, কিভাবে ওজন কমালে, কিভাবে তিনি ৩৪ টি দেশে ৪৪ টি পূর্ণ ম্যারাথন শেষ করলেন!

ব্যায়াম:
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মর্গান জিমে ভর্তি হন। প্রতিদিন তিনি জিমে যেতেন এবং জিম ইন্সট্রাক্টরের দেয়া রুটিন মত চলতেন। বাসায় তিনি ট্রেডমিলে দৌড়াতেন ৫ কিলোমিটার সমপরিমাণ।

দৌড়:
প্রতিদিন তিনি বাইরে বেড়িয়ে পড়তেন এবং রাস্তা ধরে যত দ্রুত সম্ভব দৌড়াতেন। ম্যারাথনের জন্য বিশেষ কোন ট্রেনিং নেন নি তিনি। সপ্তাহে ৫ দিন নিয়মিত তিনি ৫ কিলোমিটার করে দৌড়াতেন।

খাওয়া:
নিজের জীবনকে তিনি সকল রকম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিনের খাওয়াদাওয়ার ভুল অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বদলে ফেললেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করলেন। পুরোপুরি মেনে চললেন ডাক্তারের দেয়া ডায়েট চার্ট।

অনুপ্রেরণা: 
মর্গানের অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি নিজেই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুজে পাওয়ার তাড়না অনুভব করেন তিনি। খেয়াল করেন গিনেস বুকে নিজের অবস্থান করে নেয়ার ছোটবেলার স্বপ্ন থেকে কত দূরে সরে গেছেন তিনি। তখনি ঠিক করেন নিজের স্বপ্নের জন্য লড়বেন।

ভবিষ্যতে আরো রেকর্ড গড়তে চান মর্গান। Fasted journey on land's end to John-O'-Groats by bicycle(female) এবং একদিনের Fastest circumnavigation by bicycle(female) এ অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আমি নিজের জীবনে এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি যাতে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। কখনো চেষ্টা না করার চাইতে বরং চেষ্টা করা এবং হেরে যাওয়া ভাল। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু করার স্পৃহা রয়েছে। শুধু নিজের সবটা দিয়ে সবচেয়ে ভাল করার চেষ্টা করতে হবে।'