logo

নেতাকর্মীরা চাইলে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেব

নেতাকর্মীরা চাইলে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেব

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি- আগামী এপ্রিল মাসে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল। এ কাউন্সিলে নেতা-কর্মীরা চাইলে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) বনানীতে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের দায়িত্ব অর্পণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এসময় এরশাদ বলেন, ‘নেতাকর্মীরা যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চাইবেন, সেই দায়িত্ব পালন করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবলুর বাবা যখন অসুস্থ ছিল, তখন আমি নিজ খরচে ব্যাংককে গিয়ে দেখে এসেছি। ওকে আমি সন্তানের মতো দেখতাম। কিন্তু ও সেলফিশের মতো আচরণ করেছে। আমি যখন রংপুরে ছিলাম, আমার স্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ কারণেই তাকে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিয়েছি।’

রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রশংসা করে এরশাদ বলেন, ‘মহাসচিব পদ থেকে বাদ দেয়ার দুই বছরে সে আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও কাউকে বলেনি। বুকের ভেতর চাপা রেখেছে। এটা শুধু আনুগত্যের কারণে। কিন্তু এই সেলফিশ (বাবলু) আমি ঢাকার বাইরে যাওয়ার পর আমার স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করেছিল। আমি বেঁচে থাকতে সে এই কাজ করল!’

এরশাদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী রওশন এরশাদকে কো-চেয়ারম্যান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার বয়স এখন ৭৬ বছর। ৩ বছর পর আগামী নির্বাচনের সময় তার বয়স হবে ৭৯ বছর। সেসময় তিনি চলতে পারবেন কি না আমি জানি না। আমি নিজেও চলতে পারব কি না জানিনা। নির্বাচনের কাজে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে হয়। এসব চিন্তা করেই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করেছি।’

জিএম কাদেরকে সৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক কমার্স মিনিস্টার হওয়া সত্ত্বেও উনার সংসার চালাতে প্রতি মাসে আমাকে খরচ দিতে হয়।’

পৌর নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবি প্রসঙ্গে এরশাদ দুঃখ করে বলেন, ‘বিএনপি এই নির্বাচনে ২৪টিতে জয়লাভ করেছে অথচ আমরা পেয়েছি মাত্র একটি। কারো কোনো বদনাম নেই, সব বদনাম এরশাদ সাহেবের। কারণ আমি দলের দায়িত্বে আছি। অথচ আমি পরিশ্রম করি, দলে পয়সা দিই। কেউ টাকা দেয় না, পরিশ্রম করে না। সবাই বড় বড় কথা বলে। অফিস খরচসহ সব খরচ দিই আমি। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এই চেয়ারসহ সবকিছু আমার।’

জনগণ জাতীয় পার্টিকে বৃহৎ দল মনে করে না উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘জনগণ দেখে আমরা সরকারে আছি। যখন আমরা ভোট চাইতে যাই তখন জনগণ বলে, আপনি তো সরকারের সাথে আছেন। আপনাকে ভোট দেব কেন? আপনি যেহেতু সরকারে তা হলে নৌকায়ই ভোট দেব।’

বিএনপিকে বিধ্বস্ত দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের নেতাকর্মীরা কারাগারে। তারপরও  ২৪টি আসনে জয়লাভ করেছে তারা। আমরা পেয়েছি একটি। আমরা বাইরে আছি, বেঁচে আছি। আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জা হয়।’ 

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি ঢাকা উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতিসহ নেতাকর্মীরা এরশাদ ও নবনির্বাচিত দুজনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।