logo

পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ২১

পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ২১

ইসলামাবাদ, ২০ জানুয়ারি- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চরসাদ্দা শহরের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় দুই হামলাকারীসহ ২১ জন নিহত হয়েছে। পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

বুধবার সকালে এই হামলা হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, হামলার সময় পৃথক পৃথক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এখনও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

হামলার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

ডন জানিয়েছে, বাচা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলের সন্ত্রাসী হামলাটি সামনে উঠে আসছে। যে হামলায় ১৪০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ি নিরাপত্তা কর্মীরা ঘিরে ফেলেছে। এখানে তিন হামলাকারী অবস্থান করছে বলে সন্দেহ পুলিশের।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে তিনি জানান, কমপক্ষে ১০ জন হামলাকারী এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে রয়েছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সাইদ ওয়াজির বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে তিনি দুইজন ছাত্র ও কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছিলেন।

তিনি জানান, নিরাপত্তা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি ‍নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ভেতরে বেশ কিছু বন্দুকধারী অবস্থান করছে। তাদের প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, চার হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং এখন কোনো গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইধি’র কর্মীদের বরাতে ডন জানিয়েছে, কমপক্ষে ১৫ জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পাকিস্তান তেহরিক ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিনিধি শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, ৫০ থেকে ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে তিন থেকে চারজন সদস্য আহত হয়েছেন।