logo

বোরখা নিষিদ্ধ, পক্ষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

বোরখা নিষিদ্ধ, পক্ষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

লন্ডন, ১৯ জানুয়ারী- ব্রিটেনের মাটিতে জিহাদি আদর্শের প্রসার রুখতে তৎপর ডেভিড ক্যামেরনের সরকার। বোরখা নিষিদ্ধ হল আদালতে, ক্লাসঘরে, সীমান্তে। বন্ধ করতে বলা হল অ-নথিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষত মাদ্রাসা। এর পাশাপাশি অভিবাসী মুসলিম কিশোর–তরুণদের সৎপথে রাখতে ওয়েবসাইট, বাবা- মায়েদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ। যদিও নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না করেই চালু হবে এসব নববিধান। বিবিসি রেডিও ফোরকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। বললেন, বোরখা পরলে চেনার উপায় থাকে না, তাই ক্লাসরুম বা আদালতে কারা যাতায়াত করছে সেটা বুঝতে পারে না প্রশাসন। জঙ্গি গতিবিধি আটকাতে বোরখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জঙ্গি- যোগ আটকাতে পোশাক কিংবা খাদ্যের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চাপলে ‘অসহিষ্ণু’ দেশের খেতাপ জুটবে না তো অতি সাবধনী ইংরেজ সরকারের? ক্যামরন বলছেন, সরকার নিজের এক্তিয়ারের বাইরে একটাও কথা বলেনি।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট পোশাকবিধি রয়েছে। বোরখা পরলে পোশাকবিধি ভঙ্গ করা হয়। স্কুলের মতো কোনও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভাঙতে উৎসাহ দেয় কোন সরকার ? আবার, দেশের সীমান্ত, নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানেও সকলের মুখ দেখা জরুরি। একই নিয়ম খাটে আদালতের ক্ষেত্রেও। কয়েকদিন আগেই একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শেষ চার বছরে প্রায় ৬০০ সিরিয়াগামী ব্রিটিশকে আটক করা হয়েছে। যারা সকলেই নাকি আই এসের দলে নাম লেখাতে মধ্যপ্রাচ্যে চলেছিল। সদ্য খবর হয়েছে নতুন জেহাদি ব্রিটিশ বাঙালি সিদ্ধার্থ ধর। তার আগে স্বনামধন্য ‘জেহাদি জন’ও ছিল ব্রিটিশ। এবার তাই একটু বেশি সতর্ক হতে চাইছে ইংল্যান্ড।

দেশের স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জেহাদি আদর্শের অনুপ্রবেশ আটকাতেও তাই বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে, নাম হচ্ছে এডুকেশন এগেনস্ট হেট। সেখানে কীভাবে জেহাদি-ছোঁয়া থেকে বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের বাঁচাবেন সে ব্যাপারে সরকারি পরামর্শ থাকবে। তাতেও কাজ না হলে আলাদা করে সন্তান পালনের প্রশিক্ষণই দেবে সরকার, শেখানো হবে সন্তানের জেহাদি হওয়া আটকানোর কৌশল। আর গোটা দেশ জুড়ে নজরদারি চালানো হবে স্কুল-কলেজে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া চলা স্কুল ও কলেজগুিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের কী হবে, তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানা যায়নি।