logo

শিশুশ্রম নিয়ে অভিযোগের মুখে অ্যাপল, স্যামসাং, সনি

শিশুশ্রম নিয়ে অভিযোগের মুখে অ্যাপল, স্যামসাং, সনি

কঙ্গোর শিশুরা। প্রতিনিধিত্বশীল আলোকচিত্র।

 

পণ্যে ব্যবহৃত খনিজ শিশুদের দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে না, এটি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, স্যামসাং ও সনি। বিবিসি বলছে, প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি।

ডেমক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর(ডিআরসি) কোবাল্ট খনির ওপর তৈরি করা সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে সাত বছর বয়সী শিশুদেরও বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে দেখা গেছে। কোবাল্ট লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে তারা সবাই দাবি করেছে, শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেন তারা।অ্যামনেস্টির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের অন্ততপক্ষে ৫০ ভাগ কোবাল্ট উৎপাদন করে ডিআরসি। দেশটির কোবাল্ট খনিগুলোতে কাজ করা শ্রমিকরা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হয়।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ডিআরসির দক্ষিণাঞ্চলে অন্ততপক্ষে ৮০ জন খনি শ্রমিক ভূগর্ভে মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খনিতে কাজ করে বলে কথিত শিশুদের সাক্ষ্যও প্রতিবেদনটিতে দেওয়া হয়েছে। ১৪ বছরের এতিম শিশু পল ১২ বছর বয়স থেকে খনিতে কাজ শুরু করে।

গবেষকদের পল বলেছে, “২৪ ঘণ্টা আমাকে নিচের টানেলে থাকতে হয়। সকালে এসে কাজ শুরু করে পরদিন সকালে ফিরি। নিচের ওই টানেল থেকে মুক্তি চাই আমি। আমার পালক মা আমাকে স্কুলে পাঠাতে চায়, কিন্তু পালক বাবা এর বিরুদ্ধে, আমাকে খনিতে খাটাতে চান তিনি।”  


প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সনির লোগো।

ইউনিসেফের হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার শিশু ডিআরসির দক্ষিণাঞ্চলের খনিগুলোতে কাজ করছে। আফ্রিকান রিসোর্স ওয়াচের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা প্রতিবেদনটিতে অ্যামনেস্টি দেখিয়েছে কীভাবে ব্যবসায়ীরা শিশুশ্রমেভরা খনিগুলো থেকে কোবাল্ট কিনে কঙ্গো ডংফ্যাং মাইনিং (সিডিএম) এর কাছে বিক্রি করছে।

সিডিএম থেকে এসব কোবাল্ট যায় মূল কোম্পানি চীনা মালিকানাধীন ঝেজিয়াং হুয়াইউ কোবাল্ট লিমিটেডের কাছে। ব্যাটারি তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেতার তালিকা ধরে অ্যামনেস্টি ১৬টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে যারা হুয়াইউর কোবাল্ট ব্যবহার করা ব্যাটারি নিজেদের পণ্যে ব্যবহার করে।

একটি কোম্পানি এ সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও চারটি কোম্পানি তাদের ব্যবহৃত কোবাল্টের উৎস নির্দিষ্ট করে জানাতে ব্যর্থ হয়। ক্রেতার তালিকায় নাম থাকলেও পাঁচটি কোম্পানি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে খনিজ কেনার কথা অস্বীকার করে। অপর দুটি কোম্পানি ডিআরসির কোবাল্ট ব্যবহার করার বিষয়টিই অস্বীকার করে।


প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের লোগো।

ছয়টি কোম্পানি জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে তারা। এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাপল বলেছে, “আমাদের সাপ্লাই চেইনে শিশুশ্রম কখনোই বরদাস্ত করা হয় না এবং শিল্পটিতে এ বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনায় নেতৃত্ব দিতে পেরে আমরা গর্বিত।”

এ বিষয়ে তাদের সাপ্লাই চেইনে কঠোর অডিট চালানো হয় এবং শিশু শ্রমিক পাওয়া গেলে সরবরাহকারীকে, ওই শ্রমিককে বাড়িতে ফেরত পাঠানোর তহবিল যোগাতে বাধ্য করা হয়, ওই শ্রমিক বা তার পরিবারের পছন্দমতো স্কুলে তাকে ভর্তি করানোর খরচ দেওয়া হয়, তার বেতন অব্যাহত রাখা হয় এবং উপযুক্ত বয়স হলে তাকে কাজে পুনরায় আহ্বান করা হয় বলে জানিয়েছে অ্যাপল।


প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং-এর লোগো।

শিশুশ্রমের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্যামসাংও উল্লেখ করেছে এবং তাদের সাপ্লাই চেইনে নিয়মিত কঠোর অডিট চালানোর দাবি করেছে। তারা বলেছে, অডিটে কোনো সরবরাহকারী শিশুশ্রম ব্যবহার করে নিয়ম লঙ্ঘন করছে ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়।

খনিজ কেনা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাঁচামাল কেনার সময় থেকে উৎপাদন এলাকাগুলোতে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সনি।