logo

আইনস্টাইনের পর সাবরিনা!

মিজানুর রহমান


আইনস্টাইনের পর সাবরিনা!

সাবরিনা গঞ্জালেস পাসটেরস্কির বয়স তখন সবে ১৪। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি বিমান তৈরী করলেন তিনি। এমআইটি ক্যাম্পাসে সে বিমানটি ওড়ানোর অনুমতি চাইতে জানুয়ারির এক সকালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করলেন তিনি। সাবরিনার এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট ‘অদ্ভুত’ সে বিমান দেখে এমআইটির কর্মকর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ!

এখন সাবরিনার বয়স ২২। এমআইটি থেকে গ্র্যাজুয়েট করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নেয়ার অপেক্ষায় আছেন। পদার্থ বিজ্ঞানে তার দখল এতোটাই যে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আইনস্টাইনের পরই সাবরিনাকে স্থান দিয়েছে! মাত্র ২২ বছর বয়সেই পদার্থ বিজ্ঞানের জটিল জটিল সব সমাধান আর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

কিউবান-আমেরিকান সাবরিনা ইতিমধ্যেই অ্যামাজন.কম’র প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের কাছ থেকে চাকরির অফার পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও তার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

তার বয়সী আর সবার মতো সামাজিক মাধ্যমের প্রতি ঝোঁক নেই সাবরিনার। ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন কিংবা ইন্সট্রাগ্রাম কোথাও তার কোনো একাউন্ট নেই। এমনকি স্মার্টফোন পর্যন্ত নেই তার। তবে নিজের একটি ওয়েবসাইট আছে, নাম ফিজিক্সগার্ল.কম। নিজের কাজ, অর্জন, ইত্যাদি প্রতিদিন নিজের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করেন তিনি।

এমআইটির প্রফেসর অ্যালেন হ্যাগারটি এবং আর্ল মুরম্যান সাবরিনার তৈরী বিমানটির ভিডিও দেখার আগ পর্যন্ত তাকে এমআইটিতে ভর্তির অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ওই ভিডিও দেখার পরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রফেসর হ্যাগারটি ইয়াহুকে বলেন, ‘তার ভিডিওটি দেখার পর আমাদের মুখ হা হয়ে গিয়েছিল। তার প্রতিভা অপরিসীম।’

পরে এমআইটি থেকে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন তিনি। সাবরিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন হার্ভার্ডের প্রফেসর এন্ড্রু স্ট্রমিঙ্গার, স্টিফেন হকিংয়েংর সাথে যার যৌথ প্রকাশনা আছে।

প্রদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে ইয়াহুকে সাবরিনা বলেন,’পদার্থ বিজ্ঞান নিজেই যথেষ্ঠ উত্তেজনাকর। এটা ঠিক ৯টা-৫টা অফিস করার মতো নয়। আপনি যখন ক্লান্ত থাকবেন, তখন ঘুমিয়ে পড়বেন; আর যতক্ষণ সজাগ থাকবেন, পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে থাকবেন!’