logo

পিঠের ব্যথা কমানোর সবচাইতে কার্যকরী উপায়

কে এন দেয়া


পিঠের ব্যথা কমানোর সবচাইতে কার্যকরী উপায়

ইদানিং প্রচুর পরিমাণে মানুষ কম্পিউটারের সামনে কাটান দিনের একটা বড় সময়। আর শারীরিক ভঙ্গিমার ভুল করাতে তাদের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায় ব্যাক পেইন। ব্যাক পেইন এড়াতে মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে থাকেন অনেকে। কেউ বা কেনেন এমন সব স্যান্ডেল বা জুতো যা কিনা ব্যাক পেইন কমাতে পারে বলে দাবি করা হয়। আসলে কিন্তু এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করে না। একটিমাত্র উপায় আছে যা সবার ক্ষেত্রে ব্যাক পেইন কমাতে সক্ষম, আর তা হলো ব্যায়াম।

হাফিংটন পোস্ট জানায়, ব্যাক পেইন সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণার রিভিউ থেকে দেখা যায়, প্রচুর মানুষের মাঝে দেখা দেওয়া এই সমস্যার সবচাইতে ভালো সমাধান হলো ব্যায়াম। শুধু ব্যায়ামই নয়। বরং ব্যায়ামের পাশাপাশি কীভাবে ব্যাক পেইন প্রতিরোধ করা যায় সেই জ্ঞান থাকাটাও কার্যকরী। কোন ভারি জিনিস ওঠানোর সময় কী করতে হবে, কী করে দাঁড়ালে বা বসলে ব্যাক পেইন কম হবে এসব ব্যাপারে জানা থাকাটা জরুরী।

শুধুমাত্র ব্যায়াম করে ব্যাক পেইন কমবে, এটা বিশ্বাস নাও হতে পারে। কিন্তু ২৩টি গবেষণার তথ্য (যাতে ছিলো ৩১,০০০ জন অংশগ্রহণকারী) বিশ্লেষণ করে দেখা যায় আসলেই শুধুমাত্র ব্যায়াম করলেই ব্যাক পেইন কমে এবং ব্যাক পেইনের ঝুঁকিও কমে। এর পাশাপাশি ব্যাক পেইন কিভাবে কম রাখা যায়, সে বিষয়ে জ্ঞান থাকলেও এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয় ৪৫ শতাংশ। শুধুমাত্র ব্যায়ামের মাধ্যমেই মোটামুটি অর্ধেক কমিয়ে ফেলা যায় পিঠ ব্যাথার এই ঝুঁকি।

ব্যাক পেইন কিভাবে কমাতে হবে, এই বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা উপকারী, কিন্তু শুধুমাত্র জ্ঞান থাকাটাই ব্যাক পেইন এড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ব্যায়াম দরকারি। আবার ব্যাক বেল্ট (যা ভারি জিনিস তোলার সময়ে কেউ কেউ পরেন), অথবা ব্যাক পেইন এড়ানোর জন্য বিশেষ জুতো এগুলো তেমন একটা উপকারী নয় বলে দেখা যায়।  

কী ধরণের ব্যায়াম ব্যাক পেইন এড়ানোর জন্য ভালো। গবেষণাগুলো থেকে দেখা যায়, মানুষের শরীরের নমনীয়তা বাড়ানো, শরীরের সঠিক ভঙ্গিমা ঠিক রাখা, ফিটনেস বাড়ানো এবং তাদের ব্যাক এবং কোর মাসলের শক্তি বাড়ানো যায় যেসব ব্যায়াম, সেগুলো ব্যাক পেইনের জন্য উপকারী। শুধু পিঠের ওপর নয়, এক্ষেত্রে হাত পায়েরও ব্যায়াম জরুরী।

কতোটা সময় ব্যায়াম করতে হবে, তা অবশ্য ঠিক করে বলা যায় না। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত সপ্তাহে ২-৩বার গ্রুপের সাথে ব্যায়াম করেন এবং বাসাতেও বায়্যাম করেন। আট সপ্তাহ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত এই ব্যায়াম চালিয়ে যান তারা। ব্যায়াম বন্ধ করে দিলে এক বছরের মতো ব্যাক পেইনের ঝুঁকি কম থাকবে। স্থায়ীভাবে ব্যাক পেইনের ঝুঁকি কম রাখার জন্য ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়াটা প্রয়োজন।  

কিছু কিছু ব্যায়াম পিঠ ব্যাথা কমাতে সহায়ক, এমন ব্যায়ামগুলো দেখে নিতে পারেন এখানে। কেউ কেউ সারাদিন কাজ শেষে সময় পান না। তারা অফিসের ডেস্কে বসেই এমন একটা সহজ ব্যায়াম সেরে নিতে পারবেন, কম সময়ে এবং ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়ে যাবে এই ব্যায়াম। কিছু ব্যায়াম আবার আছে যেগুলো পিঠের ব্যাথা কমানোর বদলে বাড়াতে পারে। সবকিছু ভেবেচিন্তেই ব্যায়াম করুন। দরকার হলে জিমে গিয়ে কোন ট্রেইনারের পরামর্শ নিন। পরামর্শ নিতে পারেন আপনার ফিজিওথেরাপিস্ট বা ডাক্তারের থেকেও।

লিখেছেন- কে এন দেয়া