logo

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ খুনে যেসব ইঙ্গিত বহন করছে

রুমন রেজা


নারায়ণগঞ্জের পাঁচ খুনে যেসব ইঙ্গিত বহন করছে

নারায়ণগঞ্জ, ১৯ জানুয়ারি- আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহ অথবা কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জের। এ তিনটির যে কোনো একটি অথবা দুইটি কারণ মিলে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে মামলার এজাহার থেকে এসব ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহত তাছলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের জন্য সুনির্দিষ্ট করে কারো নাম বলেননি। তবে কয়েকজনকে হত্যার ব্যাপারে সন্দেহ করেছেন। মামলার বাদী শফিকুল সন্দেহভাজন তিনজনের নাম প্রকাশ করেছেন। এই তিনজনসহ আরো কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।  


মামলার এজাহারে শফিকুল বলেছেন, তার স্ত্রী তাছলিমার সাথে ঢাকার কলাবাগানের বাসিন্দা নাজমা বেগম ও শাহজাহানের আর্থিক লেনদেন ছিলো। এদের কাছ থেকে তার স্ত্রী আনুমানিক ১২ লাখ টাকা মাসিক চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা আনলেও সে টাকা ফেরৎ দিচ্ছিল না। এ নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে পাওনাদারদের বিরোধ চলছিলো। তারা বেশ কয়েকবার তাছলিমাকে হুমকিও দিয়েছিলো। এ বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এজাহারে বাদী আরো বলেছেন, ব্যবসায়িক কারণে তার শ্যালক মোশারফের কাছেও অনেকে টাকা-পয়সা পেত। মোশারফের পাওনাদারও প্রায়ই বাসায় আসতো।এছাড়াও শফিকুলের ভাগিনা মাহফুজ ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়াকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিলো। অনেক দিন ধরেই সে মাহফুজ মামীকে উত্ত্যক্ত করতো। মাহফুজের কারণেই শফিকুলরা ঢাকা থেকে বাসা বদল করে নারায়ণগঞ্জে যায়।

এ বিষয়টি বাসায় জানিয়ে দিলে মাহফুজকে পারিবারিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়। এর জের ধরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও শফিকুল সন্দেহ পোষণ করেন। নিহতরা হলেন তাসলিমা বেগম, তার ১০ বছরের ছেলে শান্ত, ৫ বছরের মেয়ে সুমাইয়া, তাসলিমার ভাই মোরশেদুল এবং তার জা লামিয়া বেগম।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে মৃতদেহগুলো ওই বাড়িতে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্য মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।


সিআইডি নারায়ণগঞ্জ অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এহসান উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাতের পর তাদেরকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দেনা-পাওনা সর্ম্পকে কোনো ঘটনা থাকতে পারে বা অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত সে ব্যপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের ধারণা খুনিরা নিহতদের পূর্বপরিচিত এবং বাড়িটিতে আগেও তাদের যাতায়াত ছিলো।