logo

ঘুষ নিলেন যুবলীগ নেতা, ফেরত দিলেন সাংসদ!

ঘুষ নিলেন যুবলীগ নেতা, ফেরত দিলেন সাংসদ!

নাটোর, ১৭ জানুয়ারী- বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ নাটোরের গুরুদাসপুরের নওপাড়া গ্রামের ৪৭ গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন এক যুবলীগ নেতা। আর খামে ভরে সেই টাকা গ্রাহকদের কাছে ফেরত দিলেন স্থানীয় সাংসদ। গতকাল শনিবার ওই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

ঘুষ নেওয়া ও ঘুষ দেওয়ার এ ঘটনা এখন গ্রামবাসীর মুখে মুখে। ঘুষ নেওয়ার জন্য তাঁরা যেমন যুবলীগ নেতার বিষোদগার করেছেন, তেমনি ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ায় সাংসদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (বনপাড়া) ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলার নওপাড়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪৭ গ্রাহকের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করেন উপজেলার চাপিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ইউনুছ আলী ও তাঁর কর্মীরা। এ খবর জানতে পেরে নাটোর-৪ আসনের সাংসদ আবদুল কুদ্দুস ওই যুবলীগ নেতাকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে ওই নেতা সাংসদের কাছে টাকাগুলো হস্তান্তর করেন। গতকাল গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ আবদুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠানে একে একে ঘুষ দেওয়া গ্রাহকদের নাম ঘোষণা করা হয়। আর সাংসদ প্রত্যেকের কাছে খামে করে ঘুষের টাকা ফেরত দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক নিতাই রঞ্জন তাঁর বক্তব্যে এমন উদ্যোগের জন্য সাংসদকে ধন্যবাদ জানান।

জানতে চাইলে নওপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান, শেফালী খাতুন ও খোরশেদ আলীসহ অন্তত ১০ জন প্রথম আলোকে বলেন, যুবলীগ নেতা ইউনুছ আলীর চাপাচাপিতে তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

যোগাযোগ করা হলে সাংসদ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘ছয় মাস আগে ফেসবুক থেকে ঘুষ নেওয়ার ঘটনাটি আমি জানতে পারি। পরে আমি যুবলীগের ওই নেতাকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। টাকা ফেরত না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছিলাম। টাকা ফেরতের অপেক্ষায় ছয় মাস বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে চাপের মুখে টাকা ফেরত দেন যুবলীগ নেতা। এরপর আমি ওই টাকা নিজ হাতে গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন আমি স্বস্তিবোধ করছি।’

ঘুষ আদায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে সাংসদ বলেন, ‘বিষয়টি আলোচনা করে দেখব।’

যোগাযোগ করা হলে যুবলীগ নেতা ইউনুছ আলী দাবি করেন, তিনি এই টাকা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে তদবির করার জন্য নিয়েছিলেন। তদবির বাবদ টাকা খরচ না হওয়ায় তা সাংসদের হাত দিয়ে ফেরত দেওয়া হয়।