logo

শান্তি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

শান্তি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারী- দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, আখেরাত ও দুনিয়ার শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা। সকাল ১১টার দিকে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হয় গত ১৫ জানুয়ারি।

রোববার সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন ভারতের দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য হযরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ।

মোনাজাতে করা হবে। আখেরি মোনাজাতে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০-৩৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের ধারণা।

এদিকে শুক্র ও শনিবার দু’দিন ধরে ইজতেমা মাঠে পুরোটা সময় ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত ছিলেন মুসল্লিরা। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আম বয়ান অনুষ্ঠিত হয়।

ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে র‍্যাবের ৫ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুরো ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের ১৮টি গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিদেশি মেহমানদের কামড়ার গেটেও রয়েছে সিসি ক্যামেরা। রাত-দিন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে একটি মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ২টি উপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এছাড়া ৯টি অবজারভেশন পোস্ট,৯টি ওয়াচ টাওয়ার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণের জন্য আকাশপথেও টহলে থাকছে র‍্যাবের হেলিকপ্টার। এর বাইরেও ময়দানে থাকছে র‍্যাবের বোম্ব স্কোয়াড,ডগ স্কোয়াড ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। তুরাগ নদীতে টহলের জন্য থাকছে র‍্যাবের স্পিডবোট।

দ্বিতীয় পর্বের এ আয়োজনে দেশের ১৬ জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। এ জন্য ইজতেমা ময়দানের এক’শ ৬০ একর জমির উপর নির্মিত প্যান্ডেলের খুঁটিতে নম্বরপ্লেট, খিত্তা নম্বর লাগানো হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে এলাকাভিত্তিক নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন মুসল্লিরা। দ্বিতীয় ধাপে ১৬টি জেলার মুসল্লি ২৯টি খিত্তায় অবস্থান নেন।

ওইসব জেলা ও খিত্তাগুলো হলো- ঢাকা ১ থেকে ৭ নং খিত্তায়, ঝিনাইদহ ৮ নং খিত্তায়, জামালপুর ৯ ও ১১ নং খিত্তায়, ফরিদপুর ১০ নং খিত্তায়, নেত্রকোনা ১২ ও ১৩ নং খিত্তায়, নরসিংদী ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায়, কুমিল্লা ১৬ ও ১৮ নং খিত্তায়, কুড়িগ্রাম ১৭ নং খিত্তায়, রাজশাহী ১৯ ও ২০ নং খিত্তায়, ফেনী ২১ নং খিত্তায়, ঠাকুরগাঁও ২২ নং খিত্তায়, সুনামগঞ্জ ২৩ নং খিত্তায়, বগুড়া ২৪ ও ২৫ নং খিত্তায়, খুলনা ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায়, চুয়াডাঙ্গা ২৮ নং খিত্তায় এবং পিরোজপুর ২৯ নং খিত্তায়।

মোনাজাতে অংশ নিতে মানুষের ঢল

ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমামুখী হাজারো মুসল্লির ঢল নেমেছে। মানুষের ভিড়ে রেডিসন, কুড়িল ফ্লাইওভার, খিলক্ষেত, উত্তরা, জসিমউদ্দীন, আবদুল্লাহপুর, চৌরাস্তা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এতে পায়ে হাঁটা মানুষের তীব্র ভিড়ের কারণে রাজধানীর সড়কগুলোতে যান চলাচল কম দেখা যাচ্ছে। এদিকে কুড়িল ফ্লাইওভারে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইজতেমার দু’পর্বে দুই বিদেশিসহ ১৩ মুসুল্লির মৃত্যু

শনিবার রাতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে আসা আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত কারণে। এরা হলেন- কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নূরুল আলম (৬৫), চুয়াডাঙ্গা সদরের আবদুল মাবুদ জোয়ারর্দার (৫২) ও জামালপুরের সরিষাবাড়ির আব্দুল কাদের (৬০)। এর আগে শুক্রবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে আসা তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে টঙ্গি হাসপাতাল ও ইজতেমা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়। এরমধ্যে, একজনের নাম হচ্ছে আবদুর রহমান (৬০)। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি এলাকায়। ওইদিন বিকেলে আবুল কাশেম (৬৫) নামে অপর এক মুসল্লির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার কাছারীপাড়া এলাকায়। একইদিন দুপুরে শাহিদান দ্বীন ইব্রাহিম (৪৮) নামে মালয়েশিয়ার এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে এসে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুর রহমান নামে বগুড়ার এক মুসুল্লির মৃত্যু হয়। এর আগে প্রথম পর্বে এক বিদেশিসহ মোট ছয়জন মারা যান।

ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয় ১০ জানুয়ারি। প্রথম পর্বে অংশ নেন ১৭ টি জেলার মুসল্লিরা। তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এতে অংশ নেন। তারা এখানে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াত কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান। হজের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ তাবলীগ জামাত আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমা।