logo

প্রত্যাশা এবার দাপুটে জয়ের

আরিফুল ইসলাম রনি


প্রত্যাশা এবার দাপুটে জয়ের

খুলনা, ১৭ জানুয়ারি- প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোর বেশিরভাগই ছিল সফল। স্বস্তি হয়ে ধরা দিয়েছিল জয়ও। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রত্যাশা আরও গোছানো পারফরম্যান্স ও দাপুটে জয়ের!

জিম্বাবুয়ে সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াড ১৪ জনের হলেও দলের সঙ্গে ছিলেন বাড়তি আরও চার ক্রিকেটার। শনিবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দেখা গেল আরও এক নতুন মুখ। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে অলরাউন্ডার মুক্তার আলি!

মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখতে থাকা নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন জানালেন, ‘মুক্তারকে আনা হয়েছে, সুযোগ পেলে দেখে নেওয়া হতে পারে।” পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজে নতুন সংযোজন।

এই ‘দেখে নেওয়া’ চলবে সিরিজ জুড়েই। শুধু নতুন ক্রিকেটারই নয়, দলে থিতু ক্রিকেটারদেরও ভুমিকা হবে ওলট-পালট। এসব কিছুর মধ্যেই চলবে বাংলাদেশের জয়ের ধারায় থাকার মিশন।

শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট মোটামুটি ‘লেটার মার্কস’ পেয়েছে। তিনে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান করেছেন সাব্বির রহমান। তিন নম্বরের নিয়মিত ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসানকে নামানো হয়েছিল ছয়ে। ফিনিশারের ভুমিকাও দারুণভাবে পূরণ করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে কিপিং গ্লাভস নিয়ে নতুন একজন দেওয়ার কাজটি সহজ ছিল না অবশ্যই। টিম ম্যানেজমেন্ট সেই সাহসিকতা দেখিয়েছে, ফলও মিলেছে। উইকেটের সামনে-পেছনে নজর কেড়েছেন নুরুল হাসান। পাঁচে নেমে ছোট কিন্তু দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন মুশফিক নিজেও। ব্যক্তিগত সব সাফল্যের যোগফল ছিল দলের জয়। সব মিলিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তির পাল্লা যথেষ্টই ভারী। এবার প্রাপ্তির ঝুলি আরও সমৃদ্ধ করার পালা।

রোববার বেলা তিনটায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতলে নিশ্চিত হয়ে যাবে, সিরিজ হারছে না বাংলাদেশ। শেষ দুই ম্যাচে তখন আরও বেশি করে তৈরি হবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র। জয়টা তাই তীব্রভাবেই চাইবে বাংলাদেশ।

ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান অবশ্য ভাবছেন আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা যদিও সবসময় প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতেই পছন্দ করেন, শনিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাব্বির জানিয়ে দিলেন সব ম্যাচই জয়ের কথা।

“বছরের শুরুর ম্যাচটি জিততে চেয়েছি আমরা, শুরুটা ভালো হয়েছে। এখন আমরা চাই চারটি ম্যাচই জিততে। সব ম্যাচই জিততে চাই আমরা।”

বাংলাদেশ দলের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা অবশ্য আছে সামান্যই। প্রথম ম্যাচের আলোচিত চরিত্র শুভাগত হোম হয়ত পেতে যাচ্ছেন আরেকটি সুযোগ। আরেক নতুন নুরুল হাসান তো এসেই জয় করে নিয়েছেন প্রায় সবার মন। পরখ করে নেওয়ার পালায় এবার শুধু বদলে যেতে পারে কারও কারও ভূমিকা।

জিম্বাবুয়ে আছে হতাশার বৃত্তেই। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, কিন্তু হেরেছে দল। বাংলাদেশে এসেও সেই একই চিত্র। ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরুর পরও পথ হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। বোলিংয়ে ছিল না গোছানো পারফরম্যান্স।

ব্যাটিং সমস্যার সমাধান খুঁজতে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবে এনেছে মারভান আতাপাত্তুকে। কদিন আগে বিপিএলে যিনি কোচিং করিয়ে গেছেন চিটাগং কিংসকে। হয়ত আতাপাত্তুর কোচিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে, তবে রাতারাতি কিছু আশা করা দুষ্কর।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেও ফেভারিট যথারীতি বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচের পর যে জায়গাটায় আক্ষেপ ছিল মাশরাফির, সেই জয়ের ধরনটাতেও এবার উন্নতি চাইবেন অধিনায়ক। প্রত্যাশা এবার দাপুটে জয়ের।