logo

মাশরাফির একটি ‘ভুল’

মাশরাফির একটি ‘ভুল’

খুলনা, ১৬ জানুয়ারি- মাঠ পেরিয়ে প্রায় ড্রেসিংরুমের কাছে পৌঁছে গেছেন। তবু মাশরাফি বিন মুর্তজার কথায় ঘুরেফিরে একই আক্ষেপ। একটা ভুল হয়ে গেছে। শুভাগতকে দিয়ে বল করানো উচিত ছিল। তার একটু আগে হওয়া সংবাদ সম্মেলনেও দু-তিনবার বলেছেন কথাটা, ‘...ভুল হয়ে গেছে।’

এশিয়া কাপ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যকে ছাপিয়ে চার টি-টোয়েন্টির জিম্বাবুয়ে সিরিজ বাংলাদেশ দলের জন্য পরিণত হয়েছে ‘আদর্শ টি-টোয়েন্টি শিক্ষার’ আসরে। যে শিক্ষা শুধু আসন্ন দুই বড় টুর্নামেন্টেই কাজে দেবে না, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ টি-টোয়েন্টিতেও ভূমিকা রাখবে অভিসর্ন্দভের মতো। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটের জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেও তাই মাশরাফির কণ্ঠে ভুলের আফসোস, ‘শুভাগতকে নেওয়া হয়েছিল বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতির কারণে ওকে দিয়ে বোলিং করাতে পারিনি। হয়তো করানো উচিত ছিল। ওটা আমার ভুল হয়ে গেছে।’

সেই ভুল পরে পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন শুভাগতকে চারে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল মাহমুদউল্লাহ চার নম্বরে নামবেন। শুভাগতকে দিয়ে বোলিং না করানোয় মাশরাফি ভাবলেন অন্তত তাঁর ব্যাটিংটা দেখবেন। কিন্তু সেখানে আবার হতাশ করলেন শুভাগতই!

এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা ছিল সাকিবকে ছয় নম্বরে ব্যাট করানো। শেষ দিকে অভিজ্ঞ কাউকে রাখা, যেন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়লেও ঠান্ডা মাথায় রান তাড়া করা যায়। সাকিব যখন উইকেটে আসেন, ৫.৩ ওভারে তখনো দরকার ৪৬ রান। ওই লক্ষ্য ৮ বল বাকি থাকতেই অর্জিত হয়ে যাওয়ায় এটাকে সফল পরীক্ষাই বলা যেতে পারে। সিনিয়র খেলোয়াড় হয়েও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিচে নেমে খেলার আত্মত্যাগ করে মাশরাফির প্রশংসা পেয়েছেন সাকিব।

প্রশংসা মুশফিকও কম পাননি। কাল যে উইকেটকিপিং করবেন না, সেটা তিন দিন আগেই জানানো হয়েছিল মুশফিককে। মুশফিক তা মেনে নিয়েছেন দলীয় সমন্বয় খোঁজার স্বার্থে। ব্যাটিংয়েও নেমেছেন পাঁচ নম্বরে। অধিনায়কের কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা, ‘সিদ্ধান্তগুলো খুব কঠিন ছিল। মুশি (মুশফিক) ৮-১০-১২ বছর ধরে সব পর্যায়ে কিপিং করছে। সাকিবকে ছয়ে খেলানোর সিদ্ধান্তও ছিল কঠিন। তবে আশার কথা, সিনিয়ররা এগুলো ভালোভাবে নিয়েছে। সাকিব ও মুশির ধন্যবাদ প্রাপ্য, কারণ ওরা ত্যাগ স্বীকার করেছে। দলের ভালোর কথা চিন্তা করেছে।’ অধিনায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, কাল যে যে ভূমিকায় ছিলেন, সেটাই চূড়ান্ত নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা আরও হবে। শেষ পর্যন্ত এমনও হতে পারে, সবাই আবার আগের ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হবেন।

বেশির ভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফল হলেও জিম্বাবুয়েকে আরেকটু সহজে হারাতে পারলে আরও বেশি খুশি হতেন মাশরাফি। তিনি তো মনে করেন ম্যাচটা বাংলাদেশের ১৭-১৮ ওভারের মধ্যেই জিতে যাওয়া উচিত ছিল। তবে বিপদেও আতঙ্কিত না হয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে আসার পেশাদারিতে খুশি তিনি, ‘সব মিলিয়ে পারফরম্যান্স একটু খারাপ ছিল। তবে আশা করি আমরা এটা কাটিয়ে উঠতে পারব। বড় রান তাড়া করে জেতার আত্মবিশ্বাসটা অন্তত থাকবে।’

শুভাগতর সঙ্গে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা নুরুল হাসানকে যতটুকু দেখেছেন, তাতেই মুগ্ধ মাশরাফি। উইকেটকিপার হিসেবে তাঁর নির্ভার উপস্থিতি যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি অপরাজিত ৭ রানের ইনিংসেই দেখিয়েছেন কঠিন সময়ে ঠান্ডা মাথায় ঠিক কাজটি করতে পারার সামর্থ্য। অধিনায়কের প্রশংসাবৃষ্টির শেষ বাক্যটি তাঁকে করতে পারে আরও উদ্দীপ্ত, ‘এ ধরনের একজন ক্রিকেটারকে পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’

‘চাকিংয়ের’ অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও নিজেকে খুঁজে ফেরা আল আমিনের আগের রূপে ফেরা, মুস্তাফিজের রহস্য ধরে রাখা বোলিং এবং সব শেষে জিম্বাবুয়ের ১৬৩ রান টপকে পাওয়া জয়—সব মিলিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সন্তোষজনক নম্বর পেয়েই জিতেছে বাংলাদেশ।

তবে আরও ভালোর সন্ধানে জিম্বাবুয়ে সিরিজজুড়েই চলবে নানা গবেষণা আর পরীক্ষা। সেখানে যেমন সাফল্য নিয়ে আসতে পারে ব্যাটিং অর্ডারের নতুন কোনো পরিবর্তন, শুভাগতকে দিয়ে বল না করানোর মতো ভুলও ঘটতে পারে আরও। তাতেও ক্ষতি নেই। সোনা তো আগুনে পুড়ে পুড়েই খাঁটি হয়!