logo

২ কোরিয়া মুখোমুখি 'লাউডস্পিকার' নিয়ে

২ কোরিয়া মুখোমুখি 'লাউডস্পিকার' নিয়ে

পিয়ংইয়ং, ১৫ জানুয়ারি- দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সম্প্রচার চালাতে সম্প্রতি সীমান্তে ফের লাউডস্পিকার চালু করেছে। দুই বৈরী প্রতিবেশী প্রকাণ্ড লাউডস্পিকারে কী প্রচারণা চালায়, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া দাবি করে, তারা প্রথম হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তে ফের লাউডস্পিকার চালু করে সিউল। পিয়ংইয়ং বসে থাকার পাত্র নয়। তারাও একই রকম পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচারণার উদ্দেশ্য—উত্তর কোরিয়ার সেনা ও বেসামরিক লোকজনকে প্রভাবিত করা। সরকারের বিরুদ্ধে তাদের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া। সেনাদের সপক্ষ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করা। কোরীয় যুদ্ধের সময় থেকে এ ধরনের প্রচারণা থেমে থেমে চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচারণা আরও সূক্ষ্ম হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার লাউডস্পিকারে দুই কোরিয়া ও বিদেশের সংবাদ প্রচার করা হয়। থাকে আবহাওয়ার তথ্য, নাটক ও আলোচনা। আলোচনায় স্থান পায় গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ ও দক্ষিণ কোরিয়ার জীবনযাত্রা। উত্তর কোরীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনাও প্রচার করা হয় ওই লাউডস্পিকারে। এ ছাড়া লাউডস্পিকারে সজোরে বাজানো হয় এমন সব পপসংগীত, যা উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার লাউডস্পিকারে কী প্রচার করা হয়, তা শোনা কঠিনই বটে। সম্ভবত তাদের লাউডস্পিকারগুলোর মান খারাপ। তবে তারা তীক্ষ্ণ শব্দে সিউল ও তার মিত্রদের নিন্দাবাদ প্রচার করে। উত্তর কোরিয়ার লাউডস্পিকারগুলো সম্ভবত খুব একটা শক্তিশালী নয়। তবে তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার লাউডস্পিকারের শব্দ ভন্ডুল করতে হয়তো কাজে দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর ভাষ্য, দিন-রাত মিলিয়ে তারা দুই থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লাউডস্পিকারগুলো বাজায়।

লাউডস্পিকারগুলোর শব্দ ঠিক কত দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, তা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, আবহাওয়া ও অন্যান্য অনুঘটকের ওপর নির্ভর করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর দাবি, দিনের বেলায় তাদের লাউডস্পিকারের শব্দ ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যায়। রাতে তা শোনা যায় ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই শব্দ সহজেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত উত্তর কোরিয়ার সেনা ও বেসামরিক লোকজনের কানে পৌঁছায়।

গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, সীমান্তসংলগ্ন ১১টি স্থানে তাদের লাউডস্পিকার রয়েছে। তাদের লাউডস্পিকারের সংখ্যা এখনো আগের মতোই আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া লাউডস্পিকারের অবস্থানও প্রকাশ করেনি সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ভাষ্য, উত্তর কোরিয়া তাদের লাউডস্পিকারের সংখ্যা বাড়িয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, তারা (সিউল) যেসব জায়গায় লাউডস্পিকার বাজাচ্ছে, তার প্রায় প্রতিটি বিপরীত অবস্থান থেকে সিউলবিরোধী প্রচারণার আওয়াজ আসছে। দুই কোরিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে কত দিন এই প্রচারণার খেল অব্যাহত রাখবে, বাইরে থেকে তা বলা সত্যিই মুশকিল।