logo

ভাইয়ের পুরসভার কাছে নথি তলব সারদায়। নবান্নে শুভেন্দু

ভাইয়ের পুরসভার কাছে নথি তলব সারদায়। নবান্নে শুভেন্দু

কলকাতা, ১৫ জানুয়ারি- তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীর ছেলে ও সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু ওই পুরসভার চেয়ারম্যান হওয়ায় বিষয়টি দলে বাড়তি মাত্রা পেয়েছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অবশ্য এই ঘটনায় দলের কোনও দায় দেখছে না তৃণমূল। তবে নথি তলবের পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর একান্ত বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে কাঁথি পুরসভা। পূর্ব মেদিনীপুরের এই পুরসভাটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের দখলে। বস্তুত, কাঁথির দোর্দণ্ডপ্রতাপ অধিকারী পরিবারই ওই পুরসভার একচ্ছত্র অধিপতি। সবসময়েই তাঁদের পরিবারের কেউ না কেউ এর চেয়ারম্যান থাকেন।

ওই অঞ্চলে ব্যবসার জন্য পুর-নিয়ম মেনে লাইসেন্স নিয়েছিল সারদা সংস্থা। কীভাবে সারদার মতো সংস্থাকে ওই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চায় সিবিআই। জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কাঁথির সাংসদ শিশিরের পর ওই পুরসভার চেয়ারম্যান হন শুভেন্দু। তার পরে ছোট ছেলে সৌমেন্দু। তাঁর আমলেই সারদা সংস্থা ওই লাইসেন্স পাওয়ায় ওই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি চেয়ে পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা। সিবিআই সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে সারদা সংস্থার যে আবেদনের ভিত্তিতে ওই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সারদা সংস্থাকে বাড়তি কোনও ‘সুযোগ’ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না বা দেওয়া হলে কেন দেওয়া হয়েছিল, তা যাচাই করতেই নথি চাওয়া হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, কাঁথি পুরসভা এলাকায় সারদার একটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই প্রকল্পে পুরসভার ভূমিকাও দেখতে চায় সিবিআই। জেরার মুখে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে ওই প্রকল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

সিবিআইয়ের তলবের বিষয়টি সামনে আসার পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। তাঁদের বৈঠক ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে তৈরি ‘অস্বস্তি’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অবশ্য জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘সৌমেন্দুর নামে কোনও তলব আসেনি। কাঁথি পুরসভার কাছে সারদার ট্রেড লাইসেন্সের কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, ‘‘হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের কর্মীদের বেতন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনার জন্য দীর্ঘদিন আগেই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের সময় চেয়েছিলাম। তিনি এদিন সময় দিয়েছিলেন। পূর্বনির্ধারিত সেই কাজেই নবান্নে গিয়েছিলাম। পরে জানলাম, মুখ্যমন্ত্রী আছেন। তাই তাঁকে একবার প্রণাম করে এলাম।’’

সারদা সংস্থাকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ায় একই তদন্তের মুখে পড়েছিল কলকাতা পুরসভা। সেদিক থেকে নথি তলবের বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের এক শীর্ষনেতা এদিন বলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভাও ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছিল সারদা সংস্থাকে। তাই ওই সংস্থা সংক্রান্ত তদন্তে সিবিআই কলকাতা পুরসভার কাছেও ওই সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়েছিল। কাঁথি পুরসভা সেই সব কাগজপত্র দেবে। তাতে দলের অস্বস্তির কিছু নেই।’’

সারদা মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন প্রায় চুপচাপই ছিল সিবিআই। সেই অভিযোগে বিধাননগরে সিবিআই কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বামেরা। সেখানেই সারদা মামলায় সিবিআই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘নরম অবস্থান’ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। তার পরেই এদিন সিবিআই নতুন করে পদক্ষেপ করেছে। কাঁথি পুরসভা এলাকায় ব্যবসায়িক কাজকর্ম শুরু করেছিল সারদা সংস্থা। সেজন্য প্রয়োজনীয় আবেদনের ভিত্তিতে তাদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছিল কাঁথি পুরসভা। তার ভিত্তিতেই নথি তলব।