logo

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ফখরুলের লিভ টু আপিল

আমিনুল ইসলাম মল্লিক


হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ফখরুলের লিভ টু আপিল

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি- নাশকতার তিন মামলায় হাইকোর্টের দেয়া তিন মাসের জামিনাদেশ চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিল দায়ের করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি এ আবেদনটি দায়ের করেন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম।
 
বিষয়টি জানিয়েছেন ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। তিনি বলেন, ‘কাস্টমস অনুযায়ী কোনো বিচারাধীন মামলায় উচ্চ আদালত কোনো আসামিকে জামিন দিলে সেটি হয় সাধারণত স্থায়ী জামিন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যাপারে কেন তিন মাসের জামিন দেয়া হলো? সে বিষয়টি আমরা মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আপিল) দায়ের করেছি।’ 

তিনি আরো বলেন, এই তিন মামলায় আদালত মির্জা ফখরুলকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়ে একটি রুল দিয়েছিলেন। সে আদেশে বলা ছিল কেন এসব মামলায় মির্জা ফখরুলকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না। অথচ সেই আদালতই আবার তাকে তিন মাসের জামিন দিল, কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হলো না? এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে আমরা একটি লিভ টু আপিল দায়ের করেছি।  
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল বলেন, এসব মামলায় উচ্চ আদালত ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যে সময়ের জন্য জামিন দিয়েছেন সেটি আমার দৃষ্টিতে ঠিকই আছে, কোনো অসুবিধা নেই। এটাতো আইনেই আছে, এ রকম আদেশে কোনো অসুবিধা নেই।  

যে আদালত কেন ফখরুলকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না মর্মে রুল জারি করলো সে আদালত কেন আবার তিন মাসের জামিন দিল? আসামীপক্ষের আইনজীবীর এমন মন্তব্যের উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আদালত যেটি মনে করেছে, সেটিই করেছে এতো কোনো অসুবিধা নেই। আইনেই এটি বলা আছে। তবে লিভ টু অপিলের শুনানি করে সুপ্রিমকোর্ট কী আদেশ দেবেন সেটি বলা কঠিন বলে মন্তব্য করেন এই ডিএজি।   
 
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি ও তার শরীকদলের হরতাল-অবরোধের ঘোষণা দেয়। সে ঘোষণার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লার থেকে আটক হন মির্জা ফখরুল। পরে তাকে নাশকতার অভিযোগে ৭টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সে মামলাগুলোতে বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ হন বিএনপির এ নেতা। জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত তাকে পল্টন ও মতিঝিল থানায় দায়ের করা তিন মামলায় ছয়মাসের জামিন দেয়ার পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আবারো বিচারিক আদালতে আত্বসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এরপর তিনি তিনি আবারো উচ্চ আদালতে আসলে জামিন পেয়ে যান। জামিন নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান। কয়েকবার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। এক পর্যায়ে তিনি আবারো জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে আপিল সেটি গ্রহন না করে তাকে কারাগারে আত্বসমর্পনের নির্দেশ দেন। তিনি আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আবারো সেটি না মঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফখরুল ফিরে আসেন উচ্চ আদালতে, জামিন পান তিন মাসের।