logo

‘নতুন মুদ্রানীতিতে চাঙ্গা হবে পুঁজিবাজার’

‘নতুন মুদ্রানীতিতে চাঙ্গা হবে পুঁজিবাজার’

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি- রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার কমানোর ফলে দেশের পুঁজিবাজার চাঙ্গা হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদের হার যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানুয়ারি-জুন মেয়াদের এই মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশেই পুঁজিবাজার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বা পুঁজিবাজারের কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাত থাকে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইশারায় পুঁজিবাজার নাচে একথাও সত্য।

“রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার কমানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারে,” বলেন বিরূপাক্ষ।

এর সঙ্গে একমত পোষণ করে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে।

মুদ্রানীতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ব্যাপক উল্লম্ফনের পর দেশের পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ দাবির সমর্থনে তথ্যও তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বর শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৮১ পয়েন্ট, যা জুনের সুচক ৪ হাজর ৫৮৩ পয়েন্টের সমান। অর্থাৎ ওঠানামা বিশেষ নেই।

বাজার মুলধন ও জিডিপির অনুপাতেও কমছে; নভেম্বর শেষে মুলধন ছিল জিডিপির ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ, যা জুন শেষে ছিল ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এছাড়া বাজারের পিই রেশিওতে (প্রাইস আর্নিং রেশিও) ওঠানামাও স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, নভেম্বর শেষে এই সূচক ১৫ দশমিক ২১ হয়, যা জুনে ছিল ১৫ দশমিক ৮৫।

“২০১৫ সালের শেষ থেকে পুঁজিবাজারে তেজিভাব দেখা যাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে।”

মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন,“আমরা একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজারের জন্য নানা ধরনের নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে ব্যাংকের এক্সপোজার বিষয়ে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। একটি বিশেষ বিনিয়োগকেও এক্সপোজারের বাইরে রাখা হয়েছে। এই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, “রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানোর ফলে মানি মার্কেট থেকে কিছু টাকা পুঁজিবাজারে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।”

ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, “নতুন এই মুদ্রানীতির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কিছু বাড়তে পারে।”