logo

‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যারা কথা বলে তাদের জন্য আইন করতে হবে’

‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যারা কথা বলে তাদের জন্য আইন করতে হবে’

চট্টগ্রাম, ১৪ জানুয়ারি- মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে তাদের জন্যে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক শাজাহান খান।

থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান মন্ত্রী। সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন। 

পাকিস্তান সরকার প্রণীত হামিদুর রহমান কমিশন স্বীকৃত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার প্রতীকী বিচার প্রক্রিয়া সামনে রেখে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মার্চের মধ্যেই বিচারের রায় ঘোষণার লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়, ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের লালদীঘিতে সমাবেশ, ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান নৌমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ১৯৫ সেনা কর্মকর্তার হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের বিচার করবে অঙ্গীকার করেও বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের এ প্রতীকী বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে পাপমুক্ত করতে চাই। মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত করতে চাই। শহীদজননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের গণআদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার ২০ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তাদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একে একে ফাঁসির রায় কার্যকর হচ্ছে। আমরাও পাকিস্তানি সেনাদের বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করছি। একদিন তা-ও কার্যকর করা হবে।

সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক ঘোষণা করেন নৌমন্ত্রী।

গণবিচার আন্দোলনের রূপরেখা, কর্মপদ্ধতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, কলামলেখক আবেদ খান, সংসদ সদস্য শিরিন আকতার, সদস্যসচিব ওসমান আলী, সদস্য মোখলেসুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রোকসানা ইসলাম সুইটি। 

নতুন এ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন বন্দর আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার মো. সাহাব‌উদ্দিন, মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুজিবুল হক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. একিইউএম সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা ড. সেকান্দার হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, আইইউবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হারুন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মুজিবুল হক খান, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা শফর আলী প্রমুখ।